হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

পুলিশের হেফাজতে নির্যাতন: সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর নেওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে সাতকানিয়া থানার সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ আটজনের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন ও অসদাচরণের অভিযোগে করা এক নালিশি মামলা সরাসরি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করতে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ কাজী মিজানুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন। আজ সোমবার আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, গতকাল আদালতে স্পেশাল মামলাটির গ্রহণযোগ্যতার ওপর অধিকতর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বাদীর জবানবন্দি নেন।

আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, শুনানির সময় মামলার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আদেশ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। আজ পাওয়া আদেশে ভুক্তভোগীর মামলাটি সরাসরি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করতে সাতকানিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে সাতকানিয়া থানার বাসিন্দা ও মামলার বাদী মোহাম্মদ পারভেজ একই আদালতে আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। মামলায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

গত ১১ জুন চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ কাজী মিজানুর রহমানের আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে স্পেশাল মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন। পরে মামলার গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়। গতকাল নির্ধারিত তারিখে মামলাটির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন সাতকানিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তারেক ইমরোজ, উপপরিদর্শক ফজলু ও একই থানার অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাতকানিয়া থানার এওছিয়া গ্রামের মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ পারভেজ স্বল্প বেতনের চাকরি করতেন। পাশাপাশি তিনি ব্যবসায়ও যুক্ত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৬ মে দুপুরে কোনো পরোয়ানা বা অভিযোগ ছাড়াই সাতকানিয়া থানার পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। পরে ২৯ মে পর্যন্ত থানা হেফাজতে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁর দুই হাতে গুরুতর জখম করা হয় এবং বাম কানে আঘাতের কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। তাঁর মোবাইল ফোনও নিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাঁকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে যাওয়ার পর বাদী দুই মাস তিন দিন কারা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, মিথ্যা মামলায় ছয় মাস হাজতবাসের পর বাদী জামিনে বের হয়ে পুলিশের আইজিপির কাছে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় দুজন নিরপেক্ষ সাক্ষীর জবানবন্দি নেয় পুলিশ। তবে পরবর্তী সময়ে অভিযোগের তদন্ত হলেও একপর্যায়ে তা ধামাচাপা পড়ে যায় বলে মামলায় বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার পর চলতি বছরের ১০ এপ্রিল উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তারেক ইমরোজ ও উপপরিদর্শক ফজলুর নির্দেশে সাদা পোশাকে পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য বাদীর বাসায় যান। তাঁকে অভিযোগ তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী মামলার বাদী পারভেজ জানান, এর আগে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ সৃষ্টি করায় তিনি ভয়ে মামলা করতে পারেননি।