চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিএনপির সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে রেলওয়ের অধিগ্রহণ করা জমি, সরকারি রাস্তা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা দখল করে পাঁচতলার বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ইজারাবহির্ভূতভাবে বাজার বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএনপির এই নেতার নাম মো. ইসহাক চৌধুরী। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। চিঠিতে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযুক্ত বিএনপির নেতা মো. ইসহাক চৌধুরীর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি রেল বা সরকারি জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করেননি।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘রেলের জমি দখল করে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে বিষয়টি বিভাগীয় কর্মকর্তাকে সরেজমিনে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী দখলকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, নির্দেশনা পেয়ে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করা হয়েছে।
রেলওয়ের দাপ্তরিক চিঠিতে বলা হয়, বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডী এলাকায় রেলওয়ের অধিগ্রহণ করা জমি, বিএস ৭৭৫১ দাগের সরকারি রাস্তার অংশ এবং পাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি আংশিক দখল করে মো. ইসহাক চৌধুরীপ্রায় চার শতক জায়গার ওপর ‘জমজম টাওয়ার’ নামে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। তিনি রেলওয়ে থেকে আট শতক পুকুর শ্রেণির জমি ইজারা নিলেও বাস্তবে ইজারার সীমানা ছাড়িয়ে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমের আরও জমি দখল করে সেখানে কাঁচাবাজার বসিয়ে চাঁদা আদায় করছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মোহাম্মদ সলিম নামের একজন ভুক্তভোগীর আবেদন ও সংযুক্ত তথ্য-প্রমাণের আলোকে বিষয়টি বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
মোহাম্মদ সলিমের অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি নেতা ইসহাক চৌধুরী ইজারার বাইরে দখল করা জমিতে বাজার বসিয়ে দোকানদারদের কাছ থেকে দৈনিক ভিত্তিতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে অভিযোগকারী মোহাম্মদ সলিমের রেলওয়ে থেকে ইজারা নেওয়া ১ হাজার ৪৮০ বর্গফুট জমি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মোহাম্মদ সলিমের অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. ইসহাক চৌধুরী বলেন, ‘ওই স্থানে আমার পাঁচ শতক জমি রয়েছে। আমি তিন শতক জায়গার ওপর ভবন নির্মাণ করেছি। এই ভবন আমি গত ১৫ বছর আগেই করেছি। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’