চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে উপজেলা প্রশাসন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উদ্দেশে বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক। গতকাল বুধবার বিকেল ৫টায় উপজেলার চাতরী চৌমুহনী টানেল মোড়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।
জুবাইরুল আলম মানিক বলেন, ‘চব্বিশের জুলাইয়ের ঘটনা কি আপনারা দেখেননি? তখন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা থানাগুলোতে আগুন দিয়েছে। যে পুলিশ জনগণের টাকায় পরিচালিত হয়, তাদেরকেই পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে, এ দৃশ্য কি আপনারা দেখেননি?’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে জুবাইরুল আলম মানিক অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশে পরিবর্তনের সূচনা হলেও স্থানীয় প্রশাসন কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাঁর ভাষ্য, উপজেলা ও থানা প্রশাসন বিরোধী শক্তিকে ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো প্রশাসনের ভেতরে এখনো দলীয় প্রভাব বজায় রাখা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সরকারি কল্যাণমূলক খাদ্যসহায়তা নিয়েও অভিযোগ তোলেন জুবাইরুল আলম মানিক। তিনি বলেন, টিসিবি এবং ওএমএসের মতো খাদ্যসহায়তা সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে বিভিন্ন নেতার মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়ে যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কিংবা যেকোনো সরকারি চাকরির নিয়োগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এমপির সুপারিশ আনার কথা বলে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জুবাইরুল আরও দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী প্রশাসনের পোশাক ছেড়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্যাডারদের মতো ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর দাবি, ওই সময় বাধ্য হয়ে বিক্ষুব্ধ জনগণ পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল।
বক্তব্যে জুবাইরুল বলেন, বর্তমান সরকার বা প্রশাসনের কেউ যদি আবার আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, তবে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ তা প্রতিহত করবে এবং কাউকে আর সহজে ছাড় দেওয়া হবে না।
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে পরে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে জুবাইরুল আলম মানিক বলেন, ‘ইউএনও ও ওসির উদ্দেশে ওটা তো দলীয়করণের বিষয়ে বলেছিলাম। দলীয়করণের ফলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা থানায় পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছে, সেটাই বলেছিলাম। বক্তব্যটির পুরো অংশ আমার আইডিতে আছে, ওখান থেকে দেখে নিন।’
সমাবেশটি আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আবদুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবুল হাছান খোকা। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।