‘সেলুনে কাজ করছিলাম। হঠাৎ ভাতিজার ফোন। দৌড়ে সেলুন থেকে বের হয়ে ১০০ মিটার দূরে গিয়ে যে দৃশ্য দেখি, তাতে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। চোখের সামনে সড়কে পড়ে আছে স্ত্রী ইফা শীলের (৩৫) রক্তাক্ত মরদেহ।’ আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরী গ্রামের শ্মশানে বসে এসব কথা বলেন শিমুল শীল (৪৫)। শ্মশানে তখন স্ত্রী ইফা শীলকে সৎকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। শিমুল শীল জানান, তাঁর সাত বছরের মেয়ে এখনো জানে না, তার মা আর নেই।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চাতরী চৌমুহনী বাজারের টানেল মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারানো কেইপিজেডের একটি শ্রমিকবাহী বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারান ইফা শীল। জানা গেছে, বাসটি সামনে থাকা পাঁচটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ধাক্কা দিলে দুই নারী শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরও ২০ জন। নিহত নারীরা সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।
আজ দুপুরে ঝিওরী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের শ্মশানে ইফা শীলের মরদেহ সৎকারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেখানে থাকা স্বজনদের কেউ ধর্মীয় গান করছিলেন, কেউ শ্মশানে কাজ করছিলেন, কেউ সড়কের ধারে দোকানে বসেছিলেন। ইফা শীলের স্বামী শিমুল মুখাগ্নির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
নিহত ইফা শীলের স্বামী শিমুল শীল বলেন, ‘আমার আদি বাড়ি বাঁশখালী। ২৫ বছর আগে এখানে মা-বাবাকে নিয়ে তিন ভাই থাকতে শুরু করি। ২০ বছর আগে বিয়ে করি। আর্থিক অনটনের কারণে আমরা ভাড়া বাসায় থাকি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেলুনে কয় টাকা আর ইনকাম করি। আমার স্ত্রী ইফা ১৩ বছর ধরে কেইপিজেডে চাকরি করত। তার আয় থেকে এবং ৫ লাখ টাকা ঋণ করে ৪ মাস আগে বড় মেয়ে নন্দিতা শীলকে বিয়ে দিই। ছোট মেয়ে রাধিকা শীলের বয়স এখনো সাত বছর। সে এখনো জানে না মা বেঁচে নেই।’
পুকুরপাড়ে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল সাত বছরের শিশু রাধিকা শীল। সে বলে, ‘মা অফিস থেকে আসার সময় আমার জন্য নাশতা আনবে, আমি খাব।’
আনোয়ারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মজনু মিয়া বলেন, কেইপিজেডের শ্রমিকবাহী একটি বাসের ধাক্কায় দুইজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।