নিজেই সাইকেল চালিয়ে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, মানুষ এই ট্র্যাক ব্যবহার করে অফিসে যাতায়াতের পাশাপাশি শরীরচর্চা করতে পারবে। এতে শরীর ও মন সুস্থ থাকবে। নগরের খালপাড়সহ অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজ দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধন হলো। সরকার একে একে নাগরিকদের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে। সরকার তার দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, মেয়রের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। পর্যায়ক্রমে নগরের খালগুলোর পাড়ে এবং অন্যান্য এলাকাতেও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি নিজের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ ও এনামুল হক। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. আলী উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় সাইকেল ট্র্যাকটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এ সড়কের দুই পাশে রয়েছে ফুটপাত। সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মিড আইল্যান্ড। এক পাশে ল্যান্ডস্কেপিং ও ওয়াকওয়ের সঙ্গে রাখা হয়েছে সাইকেল চলাচলের পৃথক পথ।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালুর মধ্য দিয়ে নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। এটি শুধু সাইকেল চালানোর পথ নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর নগরজীবনের দিকে অগ্রযাত্রার প্রতীক। তিনি আরও বলেন, নিরাপদে সাইকেল চালানোর পরিবেশ তৈরি হলে তরুণদের মধ্যে সাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে।