চট্টগ্রাম নগরীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে হাতকড়া পরিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫২০ টাকা লুটের মামলায় সাজু মিয়া (৩৭) নামে চক্রের এক হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত রোববার দিবাগত রাতে ঢাকার গোলাপবাগ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরের মনছুরাবাদে পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পিবিআই সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।
পিবিআই জানায়, গাইবান্ধা জেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ভেলারায় গ্রামের বাসিন্দা সাজু মিয়াকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে এর আগে তাঁর নিজ জেলা ছাড়াও ঢাকা, মাদারিপুর ও কুমিল্লায় অভিযান চালানো হয়। তবে অবস্থান পরিবর্তন করায় তাঁকে আগে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নগরের কোতোয়ালি থানার কে.সি.দে রোড থেকে হাজারী লেইনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পুলক দাশকে (৪৫)ডিবি পরিচয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
হাতে ওয়াকিটকি থাকা দুর্বৃত্তরা পুলক দাশের হাতে হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে তোলে। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার এবং স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫২০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি নির্জন স্থানে ফেলে যায়।
ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর পুলক দাশ কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও পরে আদালতের আদেশে পিবিআই তদন্তভার পায়।
ঘটনার দুই বছর পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে একটি দল চক্রের এক হোতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম আদালতে আসামি সাজু মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামির জবানবন্দিতে ঘটনাটির সঙ্গে আরও ৬ জনের জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে। ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’
পিবিআই সুপার আরও বলেন, পিবিআই তদন্তভার নেওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে সাজু মিয়াসহ চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করে। পরে কুমিল্লার চান্দিনা থানা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার গোভনীয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পিবিআই।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী পুলক দাশ পাইকারি স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। তিনি নগরের কোতোয়ালি থানার হাজারী লেনের হাজারী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নবরূপা শিল্পালয়’ নামে একটি স্বর্ণের দোকানের মালিক।