হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ছয় দফা দাবিতে কনভেনশন, পদযাত্রা-মহাসমাবেশের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে চট্টগ্রামে বিশেষ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও জাতিসত্তার ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ, ভূমি দখল রোধ এবং ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামে বিশেষ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত কনভেনশনে বিএনপি সরকার গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিনটি কমিটি বাতিল, ‘অপারেশন উত্তরণ’ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১ দফা নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলরুমে কনভেনশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব বাবুধন চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তিন পার্বত্য জেলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ছাত্র প্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার চার শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

সাজেকসহ বিভিন্ন এলাকায় জনগণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়া এবং সেনা অভিযান বন্ধের দাবিও তোলা হয়।

তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে রাজনৈতিক মনোনয়ন বাতিল করে অবিলম্বে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, বিনা বিচারে আটক বম জাতিসত্তার নারী-পুরুষসহ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং সাজেক থেকে নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আঞ্চলিক পরিষদের অবৈধ নিয়োগ বাতিল, আর্থিক অনিয়মের তদন্ত, বিতর্কিত ব্যক্তিদের অপসারণ এবং নির্বাচন আয়োজনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিও জানানো হয়।

দাবি আদায়ে স্মারকলিপি পেশ, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, দেয়াললিখন, উঠান বৈঠক, বিক্ষোভ, অবস্থান ধর্মঘট, পদযাত্রা, মহাসমাবেশ, অবরোধ ও ধর্মঘট কর্মসূচির ঘোষণা দেন উষাতন চাকমা।

কনভেনশনের লিখিত বক্তব্যে উষাতন চাকমা বলেন, ‘২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।’

বর্তমান সরকারও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের দিকে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ করেন উষাতন চাকমা।

কনভেনশনে আরও বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভানেত্রী কণিকা দেওয়ান, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের লাবনী তঞ্চঙ্গ্যা, লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রংধজন ত্রিপুরা, রিংরং ম্রো, লাংকম ম্রো, মনি স্বপন চাকমা, বিকারণ ত্রিপুরা, কাঞ্চন ত্রিপুরা, নতুন জয় চাকমা, জিকো চাকমা, হেডম্যান নিলাপ্রু মারমা, প্রহলাদ চাকমা, সেন্ট্র চাকমা ও হেমন্ত চাকমা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে প্রতিরোধ সংস্কৃতি স্কোয়াডের পরিবেশনায় একটি নাটিকা প্রদর্শিত হয়।

আলোচনা সভা শেষে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে চেরাগী পাহাড় মোড় প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।