চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ সোমবার সিএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বায়েজিদ বোস্তামী থানার ট্যানারী বটতল এলাকার মো. ইউসুফের ছেলে মো. আসিফ (২৫) এবং হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজার এলাকার মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)।
পুলিশ জানায়, বায়েজিদ থানা এলাকায় নিয়মিত অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় তাঁদের আটক করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ডেভিড ইমনের সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার কথা স্বীকার করেছে।
অতিরিক্ত কমিশনার জানান, আসিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, ডাকাতি ও হত্যা চেষ্টাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ করা বিদেশি পিস্তলটি ইতালিতে তৈরি। পিস্তলটিতে ম্যাগাজিন লোড অবস্থায় দুই রাউন্ডসহ মোট চার রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
এই ঘটনায় আজ বায়েজিদ থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের তথ্যে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ৭ নম্বর কাঞ্চন নগর গ্রামের মো. মুসার ছেলে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ২০২৪ সালে আগস্টের পর অপরাধ জগতে আলোচনায় আসে।
পুলিশ বলছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডে এইড মার্ডারে আলোচিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খানের শিষ্য। ইমন ও তাঁর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে আগস্টের পর দেড় বছরে অন্তত এক ডজন হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের তথ্যে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি একটি চাঁদাবাজির মামলায় দুই সহযোগীকে নিয়ে মোবারক হোসেন ইমন বায়েজিদ থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।
পরে বাকলিয়ায় জোড়া খুন, পতেঙ্গায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর এবং বায়েজিদে সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও ইমন এজাহারনামীয় অন্যতম আসামি হিসেবে আছেন।
ইমনের বিরুদ্ধে সর্বশেষ দুই কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে গত ১৩ জুলাই নগরের চকবাজারে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
তবে ওই ঘটনায় চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে ইমনের নাম নেই।