চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা-বাবাকে কাঁচি ও ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় একমাত্র ছেলে রোমি রাজ দাশগুপ্তকে (৩২) প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। নিহত স্বপন দাশগুপ্তের ভাই ও অভিযুক্তের চাচা তপন দাশগুপ্ত (৫৭) বাদী হয়ে গতকাল শনিবার রাতে আনোয়ারা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ রক্তমাখা ছুরিসহ তাঁকে আটক করে।
নিহতরা হলেন উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের মহাজন বাড়ি এলাকার বাসিন্দা স্বপন দাশগুপ্ত (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা দাশগুপ্ত (৫৫)।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হতেন রোমি রাজ। এসব পারিবারিক বিরোধ নিয়ে সামাজিকভাবে কয়েকবার সালিস-বৈঠকও হয়েছিল।
গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে বিয়ে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মা কল্পনা দাশগুপ্তের সঙ্গে রোমি রাজের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রোমি রাজ কাঁচি দিয়ে তার মায়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশগুপ্ত মারা যান।
স্ত্রীকে বাঁচাতে স্বপন দাশগুপ্ত এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে প্রতিবেশীরা দুজনকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর স্বপন দাশগুপ্তও মারা যান।
এজাহারসূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত রোমি রাজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগে তাকে পাবনার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে তিন-চার মাস আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন। সম্প্রতি বিয়ে করা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান বলেন, ‘মূলত কথা কাটাকাটির জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই আমরা অভিযুক্ত ছেলেকে রক্তমাখা আলামতসহ আটক করতে সক্ষম হই। রাতে নিহতের ভাই মামলা দায়ের করার পর আসামিকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘পারিবারিক কলহ এবং একমাত্র সন্তানের অবাধ্যতার জের ধরেই এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনার পরপরই ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’