হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

জাহাজভাঙা কারখানায় বিষক্রিয়া

সেই ১০ শ্রমিকের স্বজনদের কান্না এখনো থামেনি

সবুজ শর্মা শাকিল, সীতাকুণ্ড 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে স্বামীর মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন পলাশ জলদাসের ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ভৌমিকা জলদাস। ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর এক মাস পেরিয়ে গেছে। তবে স্বজনদের কান্না থামেনি। সন্তান হারানোর শোকে কাঁদছেন সানি জলদাসের মা আশোকী জলদাস। অন্যদিকে স্বামী পলাশ জলদাসকে হারিয়ে অনাগত সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁর ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ভৌমিকা জলদাস।

নিহত সানি জলদাস (২০) ও পলাশ জলদাস সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোডসংলগ্ন মির্জানগর জেলেপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সানির মা আশোকী জলদাস জানান, তাঁদের নিজস্ব কোনো বসতভিটা নেই। ১১ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে চন্দন ও সানিকে নিয়ে গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালিয়েছেন তিনি। বড় ছেলে চন্দনও গার্মেন্টসকর্মী; সংসারের হাল ধরতে জাহাজভাঙা কারখানায় যোগ দিয়েছিলেন সানি।

আশোকী জলদাস জানান, ছেলে প্রায়ই বলতেন, শিগগির জমি কিনে নিজেদের বাড়ি করবেন। সেই স্বপ্নপূরণের আগেই ছেলেকে হারালেন তিনি।

একই জেলেপাড়ার বাসিন্দা ও দুর্ঘটনায় নিহত পলাশ জলদাসের স্ত্রী ভৌমিকা জলদাস জানান, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। ভূমিহীন পলাশ মামাদের ঘরেই সংসার পেতেছিলেন। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করলেও কয়েক বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত মাছ না মেলায় এ বছর জাহাজভাঙা কারখানায় শ্রমিকের কাজ নেন তিনি। দুর্ঘটনার দিন সকালে কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘আমি কাজে যাচ্ছি, সাবধানে থেকো।’ এরপর আর ফেরেননি পলাশ।

আগামী মাসে সন্তান জন্ম নেবে জানিয়ে ভৌমিকা বলেন, সন্তানের নাম কী রাখবেন, কীভাবে বড় করবেন—এসব নিয়ে প্রতিদিন কথা হতো পলাশের সঙ্গে। এখন স্বামীকে ছাড়া সন্তান বড় করার দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর। পাওয়া ক্ষতিপূরণের সিংহভাগ শেষ হয়ে গেছে সৎকারেই।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের জীবনের কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না। তবে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কোনো পরিবার যাতে পথে না বসে, সে জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতেও কারখানা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

ছাড়পত্র না থাকায় বন্ধ কারখানা: পরিবেশের ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নবায়ন না করায় বন্ধ রয়েছে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী উপকূলের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড। দুর্ঘটনার এক মাস পরও চালু হয়নি কারখানার কার্যক্রম।

এদিকে কারখানা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তিন শতাধিক শ্রমিক। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ম্যানেজার মো. ইউসুফ বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই কারখানাটি বন্ধ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চিঠির অপেক্ষায় আছেন তাঁরা।