হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরের সব টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার তৎপরতা, ফের উত্তপ্ত বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলো ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারার প্রতিবাদে নগরীর আগ্রাবাদে আজ মঙ্গলবার বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল করে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিল করেছে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনটির দাবি, শুধু এনসিটি ও সিসিটি নয়, বর্তমানে বন্দরের সবকটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে ইজারা দেওয়ার তৎপরতা চলছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নগরের আগ্রাবাদ মোড়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি কালো পতাকা মিছিল বন্দরসংলগ্ন বারিক বিল্ডিং এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

স্কপ নেতারা জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি রয়েছে।

কালো পতাকা মিছিলে আন্দোলনকারীরা ‘গো ব্যাক ডিপি ওয়ার্ল্ড’, ‘রক্ত দিব, জীবন দিব, এনসিটি-সিসিটি দিব না’, ‘দেশের বন্দর দেশের হাতে রাখতে হবে’—এসব স্লোগান দেন।

জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে নেতারা বলেন, বন্দর কোনো সাধারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ও জাতীয় সম্পদ। এটি বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থ ও শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী। তাঁরা অবিলম্বে এই উদ্যোগ বাতিল করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টার্মিনাল পরিচালনার দাবি জানান।

সমাবেশে আন্দোলনকারীরা বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ইজারা বা কনসেশন চুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। এনসিটি ও সিসিটি ইজারার উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়ে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি মানা না হলে শ্রমিক, কর্মচারী ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত। বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ অন্য শ্রমিক নেতারা।

এনসিটি ও সিসিটি বিদেশিদের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই আন্দোলন করে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), টিইউসি, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন সংগঠন।

শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৯ অক্টোবর বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশের ওপর এক মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয় নগর পুলিশ। পরে সেই নিষেধাজ্ঞা আরও এক মাস বাড়ানো হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। পরে আন্দোলনের মুখে পুনরায় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় পুলিশ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি কারণে পরে আন্দোলন কিছুটা ধীরগতির হলেও সম্প্রতি বন্দর ইস্যুতে পুনরায় নানা কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠনগুলো।

জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন আজ দুপুরে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকেই আমরা আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছি। সে সময় আমাদের বলা হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা পরে অপেক্ষা করলাম। নির্বাচিত সরকার আসার পর আমাদের দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তে এখনো পরিবর্তন আসেনি।'

তোতন আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে জানতে পারি, গত মাসে দুবাইয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে একটি মিটিং করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলো বিদেশিদের হাতে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছিল। ওই বৈঠকের পর সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি চিঠি চালাচালি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে উনারা শুধু দুটি টার্মিনাল (এনসিটি ও সিসিটি) না, জিসিবিসহ চট্টগ্রাম বন্দরের সবকটি টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।'

জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আরও বলেন, ‘এসব টার্মিনাল দেশি বা বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান এবং শ্রমিকদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন তৎপরতার কারণে দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে পরে বন্দর রক্ষা পরিষদসহ বন্দরসংশ্লিষ্ট অন্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনরায় আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। মঙ্গলবার কালো পতাকা মিছিল করেছি। বুধবার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালিত হবে। আমাদের দাবি—দেশের বন্দর দেশের হাতে রাখতে হবে।'

১০ জুন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেয় চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। স্মারকলিপিতে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, সিসিটি, জিসিবিসহ সব টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ বন্ধ করা, ডিপি ওয়ার্ল্ড বা অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বাতিল, দেশীয় সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের মাধ্যমে বন্দর পরিচালনা জোরদার করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, স্কপ প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আয়োজন এবং বন্দর বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হবে না—এমন সুস্পষ্ট সরকারি ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

চট্টগ্রামে টোলমুক্ত সেতুর জন্য ইজারা, অসন্তোষ

চট্টগ্রামে পার্কভিউ হাসপাতালের ১০০ ব্রেইন টিউমার সার্জারির মাইলফলক, উদ্বোধন হলো নতুন অপারেটিং মাইক্রোস্কোপ

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে দুই জাহাজের সংঘর্ষে ডুবল পাথরবোঝাই লাইটার, উদ্ধার ১২

চট্টগ্রামে ১৭ বছর পর হত্যা মামলার রায়, দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তায় ৩ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

চট্টগ্রামে ৩০ বছর ধরে বন্ধ থাকা মিল চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে আজকের পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

চট্টগ্রামে সড়কের নিচে গ্যাসের পাইপলাইনে লিকেজ, আগুন