চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদে পশ্চিম শহীদনগর এলাকা থেকে এক যুবকের খণ্ডিত দুই হাত ও পা উদ্ধারের এক দিন পর একই এলাকার অদূরে একটি খাল থেকে তাঁর মাথাসহ শরীরের অন্যান্য খণ্ডিতাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. আনিস (৩৮)। তিনি রাউজান উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কবির আহম্মেদ বাড়ির মো. হায়দার আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় পুলিশ আনিসের কথিত প্রেমিকা সুফিয়া ও তাঁর ভাই মুসাকে আটক করেছে।
পুলিশ বলছে, আনিসের সঙ্গে কথিত প্রেমিকা ও তাঁর ভাইয়ের টাকাপয়সা নিয়ে বিরোধ ছিল। এর জেরে আনিসকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে আসে খুনিরা।
আজ শুক্রবার দুপুরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন মোড়ে লোহারপুল এলাকার খাল থেকে বস্তায় মোড়ানো ওই যুবকের শরীরের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে বায়েজিদ থানা-পুলিশ।
এর আগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে পশ্চিম শহীদনগর এলাকার স্থানীয় নালা থেকে মানবদেহের দুটি খণ্ডিত হাত উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই নালায় তল্লাশি চালিয়ে খণ্ডিত দুটি পাসহ শরীরের আরও কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হাত-পায়ের রগ কাটা ছিল। হাত দুটি বাহু পর্যন্ত এবং পা দুটি হাঁটু থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে।
পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার করা হাতের আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় নগরের পশ্চিম শহীদনগরের চারতলা এলাকা থেকে সুফিয়াকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যে আজ দুপুরে লোহারপুল এলাকার খাল থেকে পলিথিনে মোড়ানো আনিসের শরীরের বাকি খণ্ডিতাংশ উদ্ধার করা হয়।
নগর পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামী জোনের সহকারী কমিশনার মো. মারুফুল করিম আজ বিকেলে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, হত্যাকাণ্ডের শিকার যুবক আনিসের সঙ্গে এলাকাটির এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই প্রেমিকার ভাইয়ের সঙ্গে টাকাপয়সা পাওনা নিয়েও বিরোধ ছিল ওই যুবকের।’
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন টাকাপয়সা-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে প্রথমে আনিসের সঙ্গে কথিত প্রেমিকার ভাইয়ের কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়াঝাঁটি হয়। একপর্যায়ে আনিসকে কুপিয়ে হত্যা করেন তাঁরা। পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাঁর মরদেহ টুকরো টুকরো করে সেগুলো একাধিক পলিথিন ভরে এলাকার নালা ও খালে ফেলে দেওয়া হয়।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত আনিস এর আগে বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি কিছুদিন ধরে ব্যবসা করছিলেন। একপর্যায়ে শহীদনগরের চারতলা এলাকার ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। ওই সময় আনিসের সঙ্গে সুফিয়া ও তাঁর ভাই মুসার আর্থিক লেনদেনও হয়। সম্প্রতি পাওনা টাকা ফেরত দিতে চাপ দিচ্ছিলেন আনিস।