হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে অচেতন করে চুরি

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: 

চেতনানাশক মেশানো খাবার খেয়ে হাসপাতালে বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে অচেতন করে চুরির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ এলাকার নওশা মিয়া চেয়ারম্যান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার সকালে অচেতন পাঁচজনকে উদ্ধার করে মিঠাছরা ডায়নামিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ ব্যক্তিরা হলেন বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী (৪০), তাঁর স্ত্রী জেরিন (৩০), শাহাবুদ্দিন চৌধুরী (৫০), তাঁর ছেলে ইরফান উদ্দিন চৌধুরী (২৮) এবং ইরফানের স্ত্রী মাইমুনা (২৫)।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গতকাল মঙ্গলবার রাতে খাবার খাওয়ার পর তাঁরা একে একে ঘুমিয়ে পড়েন। আজ বুধবার সকালে পাশের ঘরের লোকজন তাঁদেরকে অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই আমি ও আমার স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে স্বজনেরা আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এখনো চোখে ঘুমের ভাব রয়েছে। ধারণা করছি, চুরির উদ্দেশ্যে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক কোনো দ্রব্য মিশিয়ে দিয়েছিল। আমার ঘর থেকে টাকা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র খোয়া গেছে।’

পরিবারের স্বজন অয়ন চৌধুরী বলেন, রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খাবার খান। সকালে তাঁদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে কী পরিমাণ নগদ অর্থ ও মালামাল খোয়া গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পার্শ্ববর্তী আরেক বাড়ির বাসিন্দা তারেক আজিজ নোবেল বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রান্নাঘরে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি রান্না করা তরকারিতে কিছু মেশানোর চেষ্টা করেন। পরিবারের এক সদস্য ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য লাইট জ্বালালে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান।

মিঠাছরা ডায়নামিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আজ বুধবার সকালে অচেতন অবস্থায় নারী-পুরুষ পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তবে এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।