চট্টগ্রামের হালিশহরে আন্তজেলা পরিবহনশ্রমিকদের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা ও জাল ভোট নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে গিয়ে আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নগরের হালিশহর ঈদগাহ এলাকার দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে এই সংঘর্ষ হয়।
এতে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) চার পুলিশ সদস্য ও বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর নগরের কদমতলী ও অলংকার মোড়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। পরে বিকেল ৫টার দিকে তাঁদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সকাল থেকে ভোট গ্রহণ চলছিল। ভোটকেন্দ্রে অব্যবস্থাপনার কারণে ভোট দিতে দেরি হওয়া ও জাল ভোট নিয়ে অভিযোগ তোলেন কয়েকজন শ্রমিক। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকদের আরেকটি পক্ষের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
এ সময় দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় তিনি ছাড়া আরও তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁরা বর্তমানে দামপাড়া পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চট্টগ্রাম আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির সচিব মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষক দলেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইটপাটকেল ছোড়ার পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। তখন পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।’
এ ঘটনায় পরে নগরের কদমতলী ও অলংকার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এই দুটি স্থান থেকে চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের বাস ছেড়ে যায়। অবরোধের কারণে সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়।
পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল আবছার বলেন, সড়ক অবরোধের পর পরিবহনশ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। বিকেল ৫টায় তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।