হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

আইও সেজে মামলার বাদীদের কাছ থেকে টাকা আদায়, ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম

নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকা থেকে ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার একটি দল। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) পরিচয়ে বিভিন্ন মামলার বাদীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোজাম্মেল হক (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার একটি দল। এ সময় তার কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ও ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হক ওই এলাকার বেশারত উল্ল্যাহর ছেলে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম নগরের মনসুরাবাদে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এম কে এইচ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই সুপার জানান, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক বাসিন্দা আদালতে নালিশি (সিআর) মামলা করার পরপরই তার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কল করেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান পরিচয় দিয়ে বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বাদীর পক্ষে দেওয়া হবে। এ জন্য তদন্তে মাঠপর্যায়ে যেতে গাড়িভাড়া ও নাশতার খরচ প্রয়োজন।

পরে ওই বাদী বিকাশে টাকা পাঠান। আরও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ পেলে তিনি সরাসরি চট্টগ্রাম জেলা পিবিআই কার্যালয়ে যান। সেখানে কর্মকর্তার নেমপ্লেট দেখে প্রকৃত এসআই আবু সুফিয়ানের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি ধরা পড়ে।

পিবিআই সুপার বলেন, বাদী জানান, তিনি ইতিমধ্যে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন এবং প্রতারক আরও টাকা পাঠাতে চাপ দিচ্ছেন। পরে প্রকৃত এসআই আবু সুফিয়ান নিশ্চিত করেন, ওই মোবাইল নম্বরটি তার নয় এবং পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান থানায় একটি মামলা করা হয়। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, একটি প্রতারক চক্র আদালত থেকে বিভিন্ন মামলার বাদীদের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তাদের ফোনে যোগাযোগ করত। কখনো পিবিআই, কখনো সিআইডি আবার কখনো ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে বাদীদের কাছে গাড়িভাড়া, জ্বালানি খরচ কিংবা আপ্যায়নের কথা বলে টাকা দাবি করা হতো।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ থেকে শুরু করে মারামারির মামলার বাদীরাও এ চক্রের লক্ষ্য ছিল। পরিস্থিতি অনুযায়ী ২ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হতো বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোজাম্মেল হকের অবস্থান শনাক্ত করার পর শুক্রবার নোয়াখালীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক রবি চন্দ্র দাস বলেন, ‘একা একজন মানুষের পক্ষে প্রতিদিন চট্টগ্রাম আদালতের বিভিন্ন শাখার নথি সংগ্রহ করা এবং একই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব নয়। এর পেছনে আদালতের কোনো অসাধু কর্মচারী, আইনজীবী সহকারীদের কোনো সিন্ডিকেট কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ভেতরের লোক জড়িত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’