হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সড়ক দুর্ঘটনায় মুছে গেল বিয়ের আনন্দ, কনের ভাই-বোনসহ নিহত ৪

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

বিয়ের আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো স্বজনের মৃত্যুতে। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। ছিল প্রচুর সাজসজ্জা, ভরপুর খাওয়াদাওয়ার আয়োজনও। কিন্তু কে জানত, ফিরতি পথেই আনন্দের সব রং নিভে গিয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে পরিবারটির ওপর!

কন্যা সম্প্রদান শেষে কনেকে স্বামীর বাড়ি বাঁশখালীর উদ্দেশে রওনা করিয়ে দিয়ে স্বজনেরা ফিরছিলেন কক্সবাজারে। মাইক্রোবাসে বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যেরটেক এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন কনের ভাই, বোন, মামা ও চালক। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কনের বাবা। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কনের মাও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গতকাল শনিবার গভীর রাতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ থেকে কক্সবাজারে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় নববধূ তাম্মিন ফায়েছা ফাহিমের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভাই নিয়াজ মোর্শেদ (২২) ও বোন মিফতাহ (১৭) ঘটনাস্থলেই মারা যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাঁদের বড় মামা ফেরদৌস আলম (৫৫) ও মাইক্রোবাসচালক মুন্না (৪০)। নিহত চারজনের বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকায়।

দুর্ঘটনার সময় মাইক্রোবাসে ১১ জন ছিলেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের ঈদগাহ মাইজপাড়ার বাসিন্দা মীর কাশেম (৬০), শামসুল আলমসহ (৫৫) আরও সাতজন প্রাণে বেঁচে যান।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় গতকাল রাতে ফাহিমের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বাঁশখালীর কালীপুর এলাকার মো. তৈয়বের ছেলে ফখরুল আবেদীনের সঙ্গে ফাহিমের বিয়ে হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়েতে কক্সবাজার থেকে তিনটি মাইক্রোবাসে ৩০ থেকে ৪০ জন আত্মীয়স্বজন যোগ দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রথম দুটি গাড়ি নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেও সবার শেষে রওনা হন ফাহিমের পরিবারের নিকটজনেরা। সেখানে ফাহিমের বাবা মনজুর আলম এবং তাঁর চার ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই ছেলেমেয়ে ও স্ত্রী ছিলেন।

কনের ভাই নিয়াজ মোর্শেদ ও মামা ফেরদৌস আলম। ছবি: সংগৃহীত

দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় মনজুর আলমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনায় কনের মা নিলুফা আক্তারও আহত হয়েছেন। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা।

ফাহিমের মামা ফেরদৌস আলমের ছেলে তারেক মাহমুদ বলেন, ‘অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন দুটি মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারের বাড়িতে ফিরছিলেন। ফুফি, ফুফাতো ভাই-বোনসহ বাবা-মাও ছিল গাড়িতে। ভাবতেও পারিনি আনন্দ এভাবে বিষাদে রূপ নেবে। একনিমেষে সব শেষ হয়ে গেল।’

আজ রোববার বেলা দেড়টায় হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ কক্সবাজারের উদ্দেশে নেওয়া হয়। রাত ৮টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমদ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যান ও মাইক্রোবাসটি জব্দ করে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।