চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পুলিশের তালিকাভুক্ত মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. মুসা।
যশোর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়। গভীর রাতে ঝিকরগাছা উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকার একটি চেকপোস্ট থেকে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ অভিযানে যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা-পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন।
চট্টগ্রাম জেলা-পুলিশের এক কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তিনি ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, ডেভেলপার, ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস মালিক এবং খাতুনগঞ্জের আড়তদারদের কাছে চাঁদা দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দাবি করা অর্থ না দিলে গুলি, হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনায় তাঁর সহযোগীরা জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ পুলিশের।
পুলিশের দাবি, চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ডেভিড ইমনের নাম আলোচনায় আসে। প্রথমদিকে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত থাকলেও পরে তিনি নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ নগরের বাকলিয়া এলাকায় জোড়া হত্যা এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঢাকাইয়া আকবর ও সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ অন্তত সাতটি হত্যা মামলার আসামি ডেভিড ইমন।