চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ হামিম (২০) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার কেরানীহাট সিটি সেন্টার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রোহান উদ্দিন (১৯) নামে এক তরুণকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন।
নিহত হামিম উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আফজলনগর সোলতান সওদাগরের বাড়ি এলাকার মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে। আটক রোহান উদ্দিন একই ইউনিয়নের কাজীরখীল এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামিমের সঙ্গে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে এর আগে একাধিকবার ঝগড়া-বিবাদও হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিরোধ মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কেরানীহাট সিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় একটি চায়ের দোকানে দুই পক্ষের লোকজন বৈঠকে বসে।
বৈঠকের একপর্যায়ে হামিমের সঙ্গে রোহান উদ্দিনের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। তখন রোহান ছুরি দিয়ে হামিমকে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
গুরুতর আহত হামিমকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হামিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন রোহান উদ্দিনকে ধাওয়া করে আটক করেন। এ সময় তাঁকে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরে তাঁকে সাতকানিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
নিহত হামিমের মামা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাগনেকে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে কেরানীহাট সিটি সেন্টার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রতিপক্ষের তরুণেরা আগে থেকেই ভাগনেকে মারধরের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। সেখানে আমার ভাগনেকে একা পেয়ে তারা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে।’
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সেখানে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে হামিম নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন রোহান নামে এক তরুণকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। কেন এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে।’