চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামের এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের হোটেল রিলাক্স জোনের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
নিহত আমিনুল ইসলাম খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি রাঙামাটি পুলিশ লাইনসে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার হাজীশ্বরাই এলাকার মো. ইব্রাহীমের মেয়ে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, আমিনুল ও তাঁর স্ত্রী গতকাল রোববার বেলা ২টার দিকে হোটেলে এসে কক্ষটি ভাড়া নেন। রাতে কয়েক দফা খাবারের জন্য কক্ষ থেকে বের হলেও এরপর আর তাঁদের দেখা যায়নি।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কক্ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে হোটেলকর্মীরা একাধিকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে ব্যবস্থাপকও তাঁদের ডাকেন। একপর্যায়ে তাহমিনা রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দেন। এরপর কক্ষের ভেতরে খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানা-পুলিশে খবর দেন হোটেলকর্মীরা।
হোটেল রিলাক্স জোনের ব্যবস্থাপক মো. সোহান বলেন, আমিনুল ও তাঁর স্ত্রী পরিচয়ে দুজন গতকাল দুপুরে কক্ষটি ভাড়া নেন। তাঁদের সঙ্গে ১০ মাস বয়সী একটি শিশুও ছিল।
মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে কক্ষ থেকে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুটি সুস্থ আছে।
এএসপি আরও বলেন, নিহত ব্যক্তি একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।