চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান (১৫) মারা যাওয়ার ঘটনায় তথ্য গোপন রাখার অভিযোগে তার চার সহপাঠীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের করা মামলায় হালিশহর থানা-পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে।
শান চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের ‘চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুল’-এর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে সন্দ্বীপের মগধারা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট সকালে শান বাসা থেকে কোচিংয়ের উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন ১৬ আগস্ট শানের পরিবার হালিশহর থানায় একটি জিডি করে। তবে ১৫ আগস্ট বিকেলেই নগরের পতেঙ্গা সৈকত এলাকা থেকে পুলিশ একটি কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছিল, যা দুদিন অজ্ঞাতনামা হিসেবে ছিল।
হালিশহর থানার অপারেশন্স অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোশাররফ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, নিখোঁজ ডায়েরির পর পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, আগের দিন পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে পুলিশ অজ্ঞাতনামা এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছিল। পরিচয় না পাওয়ায় মরদেহটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা পতেঙ্গা থানায় গিয়ে মরদেহটি শানের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শানের মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর তার চার বন্ধুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে, ঘটনার দিন দুপুরে কোচিংয়ে পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে শানসহ তারা পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় যায়। সেখানে সবাই মিলে গোসল করতে নামলে শান সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে যায়।
চার বন্ধুর দাবি, পরে সেখানে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও শানকে না পেয়ে তারা বাসায় ফিরে যায়। ভয়ে তারা এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনের এই ভাষ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এসআই মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পানিতে তলিয়ে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলা হলেও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। যেহেতু তারা একসঙ্গে শানের সঙ্গে ছিল এবং মৃত্যুর ঘটনার তথ্যও গোপন রাখে, এর মাধ্যমে তারা অপরাধ সংঘটিত করেছে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় চারজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
এসআই আরও বলেন, ‘মামলাটি এখনো তদন্ত পর্যায়ে আছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি হত্যা তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।’
এদিকে শানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, তারা মুক্তিপণ হিসেবে ৬০ হাজার টাকা দেয়।
এসআই মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় একটি প্রতারক চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। প্রতারণার মাধ্যমে তারা শানের পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রটির সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চার কিশোরের সম্পৃক্ততার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।