চট্টগ্রামে ভেজাল ও নিম্নমানের খাবার তৈরি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রয়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ‘মেরিডিয়ান’, ‘ফ্লেভারস’, ‘রিও ক্যাফে’ ও সুপারশপ ‘উৎসব’কে মোট ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। জরিমানা অনাদায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) চট্টগ্রামের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে বিচারিক কার্যক্রম শেষে এ দণ্ড দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার নেতৃত্বে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারির কারখানায় নিম্নমানের ঘি ব্যবহার করে বেকারিজাত পণ্য উৎপাদন, খাদ্য উপকরণে ভেজাল মেশানো, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, পচা-বাসি মিষ্টির উচ্ছিষ্টাংশ ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি, কেক ও বিস্কুট সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে খাদ্যপণ্যের লেবেলিং না করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক ও মান নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সনদ ছাড়া ঘি উৎপাদনের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৫৮ ধারায় বর্ণিত দণ্ড তফসিলের ২৬, ২৮, ২৯, ৩২(ক), ৩৩, ৩৯ ও ৪০ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কারখানাটির মানোন্নয়নসংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মালিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের চিপস, নুডলস ও ম্যাংগো বারের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ না করা, খাদ্য উৎপাদনস্থলে পোকামাকড় ও তেলাপোকার উপস্থিতি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদবিহীন পটেটো স্টিকস সংরক্ষণ এবং ব্যবহৃত তেল ও ম্যাংগো পাল্পে যথাযথ মেয়াদ উল্লেখ না থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়।
এসব অভিযোগে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৫৮ ধারায় বর্ণিত দণ্ড তফসিলের ২৬ ও ৩৩ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের সব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মালিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুপারশপ উৎসবের বিরুদ্ধে মানহীন আচার ও নিম্নমানের হোমমেড পণ্য বিক্রি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোস সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং খাদ্যপণ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে লেবেলিং না করার অভিযোগ আনা হয়।
এ ছাড়া আমদানিকারকের যথাযথ তথ্য ছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় খাদ্যপণ্য বিক্রি, জিলাপিতে ব্যবহৃত রঙের তথ্য না দেওয়া, নষ্ট মরিচ, বিভিন্ন মসলা ও চকোলেট সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং পপকর্ন ও ক্যারামেল তৈরিতে খোলা তেল ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ছাড়া আচার ও হোমমেড পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়।
এসব অপরাধে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৫৮ ধারায় বর্ণিত দণ্ড তফসিলের ২৬, ২৯, ৩২(ক) ও ৩৯ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আগামী ৩০ আগস্ট আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আমদানিকৃত ফলমূলের ক্রয়মূল্যসহ যাবতীয় তথ্য উপস্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুষ্টিতথ্য ছাড়া আচার এবং যথাযথ অনুমোদন ও পুষ্টিতথ্য ছাড়া হোমমেড পণ্য বিক্রি বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রিও ক্যাফে-মাজায়দারের বিরুদ্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রি, পচা-বাসি খাবার সংরক্ষণ, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানা, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও সনদ ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যায়।
এসব অভিযোগে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৫৮ ধারায় বর্ণিত দণ্ড তফসিলের ৩৯ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, র্যাব, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা অংশ নেন।