‘সে প্রায় সময়ই বাইরে থাকত। ঘরে আসত না। মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ডাকাতি করছিল, কেউ হয়তো মেরে ফেলেছে। এর আগেও এক জায়গায় ডাকাতি করতে গিয়ে পাবলিকে ধরে মাথা ফেটে দিয়েছিল, মাথায় তখন ৮টি সেলাই হয়েছিল।’ —স্বামীর মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা প্রকাশ করে শামীমা আকতার কথাগুলো বলছিলেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর বন্দর এলাকার কবরস্থানের ঝোপঝাড়ে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে দিল মোহাম্মদের (৪৮) মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী শামীমা আকতার গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
পরে মরদেহটি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ।
দিল মোহাম্মদ উপজেলার ইছানগর এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে। তাঁরা উত্তর বন্দর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মহিলা সদস্য রুমি আকতার বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশকে অবগত করি। পরে আমি গিয়ে দেখি লোকজনের ভিড় জমেছে। জানতে পারলাম, তাঁরা আমাদের এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তাঁর স্ত্রীকে খবর দিলে তিনি গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।’
পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত নেশা করায় জ্ঞান হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে ঘটনাস্থলে মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় ডাকাতিসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’