হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

যৌথ কমিটির মাধ্যমে সমাধান হবে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের সমস্যা: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে যৌথ কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দুই পক্ষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত কার্যকর হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে বসেছি। প্রায় অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। আগামী দিনে পোর্ট, কাস্টমস একসঙ্গে কাজ করতে পারে। এগুলো কার্যকর হয়ে যাবে। পোর্ট, কাস্টমস মিলে আগামী দিনে জয়েন্টলি নতুন ধারা সৃষ্টি হবে। যার মাধ্যমে ব্যবসায়ী, সরকার, দেশের জনগণ লাভবান হবে। ২০৩৪ সালে আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কথা বলছি, সেটির পথ সুগম হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে ‘জয়েন্ট কমিটি’ হতে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উনারা যেকোনো সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করবেন।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশকে ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতিতে নেওয়া এবং অর্থনীতির টেকঅফ নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে অর্থনীতি চাঙা করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয় রয়েছে।

ব্যবসা সহজীকরণের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের নিয়ন্ত্রক জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসতে বাজেটে ডিরেগুলেশনের কথা বলা হয়েছে। এ ডিরেগুলেশন কার্যকর করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল এ দিনের সভা।

সভায় কাস্টমস, পোর্ট ও ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কী কী সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি সমস্যার সমাধান কী হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে; সিদ্ধান্তগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে; কোন সিদ্ধান্ত কত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে, সেটিও ঠিক করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পোর্ট ও কাস্টমস একসঙ্গে কাজ করলে পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্যক্রম কম সময়ে শেষ হবে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে, দক্ষতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ওপর বিনিয়োগকারী ও আমদানিকারকদের আস্থা বাড়বে।

দ্রব্যমূল্যের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পোর্টে অতিরিক্ত খরচ ও কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষের ওপরও চাপ পড়ে। সাপ্লাই চেইন বাধাগ্রস্ত হলে খরচ বেড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত জনগণকেই তা বহন করতে হয়। এ খরচ যাতে ব্যবসায়ী বা জনগণের ওপর না পড়ে, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনসিটি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যারাই পোর্ট চালাক, তাদের এগুলো মেনে জনগণের স্বার্থে, ব্যবসার স্বার্থে, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে একই পথে চালিত হতে হবে। পোর্ট কে চালাবে না চালাবে, এটি আমাদের বিষয় নয়। যখন যার হাতে পোর্ট থাকবে, সেটি দেশি হোক বা বিদেশি হোক, তাদের এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।’

বন্ধ কারখানা চালুর প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, অর্থনীতিকে ইতিমধ্যে সরলীকরণ করা হয়েছে, ডিরেগুলেশন করা হয়েছে এবং কর কমানো হয়েছে, যাতে শিল্পগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সরকারের নেওয়া উদ্যোগের ফলে বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগও আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কে কার সঙ্গে পরিচিত, এ সরকারের অধীনে এগুলো চলবে না। এসব পৃষ্ঠপোষকতার কোনো ব্যবসা আমরা করতে দেব না, সুযোগ নেই। যে যত বড় মন্ত্রী হোক, পাওয়ারফুল লোক হোক, সুযোগ নেই।’

এডিবির বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শুধু লজিস্টিকস হাবই হবে না, আগামী দিনে উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবেও গড়ে উঠবে। তিনি জানান, এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপাইন থেকে এসেছেন, স্টেকহোল্ডারদের ডাকা হয়েছে এবং সবার কথা শোনা হবে। এই অঞ্চলে এডিবির বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।