চট্টগ্রামকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের নগরীতে রূপান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সিপিডিএলের গ্যালারিয়া অ্যাম্বিয়েন্স হলে আয়োজিত ‘কানেকটিং দ্য ফিউচার অব চট্টগ্রাম’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী, নগর পরিকল্পনাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় নগরীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, নগরায়ণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
সিপিডিএল পরিবারের প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘একটি গ্লোবাল সিটি শুধু আধুনিক অবকাঠামো দিয়ে গড়ে ওঠে না। এর জন্য আন্তর্জাতিক মানের সেবা, আধুনিক জীবনযাপনের সুযোগ, আকর্ষণীয় গন্তব্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং উন্নত নগর অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।’
চট্টগ্রামের বিদ্যমান সম্ভাবনাকে ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিপিডিএল বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানান ইফতেখার হোসেন।
চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করে আধুনিক ও গ্লোবাল সিটিতে রূপান্তরের যাত্রায় সিপিডিএলের ‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’ ভাবনা ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সিপিডিএলের চিফ স্ট্র্যাটেজিক অফিসার জিয়াউল হক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরেন। চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নগরজীবনের মানোন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সিপিডিএল বলে জানান তিনি।
সিপিডিএলের ‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’ ভাবনার অন্যতম প্রকল্প ‘মল অব চট্টগ্রাম’। প্রকল্পটিকে চট্টগ্রামের প্রথম ডেস্টিনেশন মল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফয়’স লেক রোডে ‘গ্যালারিয়া—ইওর সেকেন্ড হোম’ নামে একটি প্রিমিয়াম আতিথেয়তা গন্তব্যও গড়ে তোলা হচ্ছে। আবাসন, রেস্তোরাঁ, সুইমিং পুল, জিম ও ব্যাংকুয়েট হলসহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে প্রকল্পটি চট্টগ্রামের আতিথেয়তা খাতে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ও ল্যান্ডমার্ক প্রকল্প প্রয়োজন।
এসব উদ্যোগ নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রা, নগর অভিজ্ঞতা এবং চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিচিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে মত দেন তাঁরা।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম নিয়ে সিপিডিএল যে স্বপ্ন ও আশা নিয়ে এগোচ্ছে, তা সফল হবে বলে তিনি আশা করেন।
চট্টগ্রাম সামগ্রিকভাবে এখনো পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে আমিরুল হক বলেন, নগরীতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে হলে সবার সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা দরকার।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, স্থপতি আশিক ইমরান এবং বারকোড গ্রুপের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল হকসহ অন্যরা।