হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

গাছ চুরি নিয়ে ফেসবুক পোস্টের জেরেই খুন হন ‘পিচ্চি জাহিদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

গ্রেপ্তার ১০ আসামি। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাহেদুল আলম (৩৩) ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা মামলায় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ বুধবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত ৩০ আগস্ট রাতে সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়নের ভাঙারগোড়া এলাকায় পিচ্চি জাহিদকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদও (২৫) আহত হন।

পুলিশ বলছে, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার ঘটনা ও এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা নিয়ে জাহিদের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের দিন রাত ৮টার দিকে পুরানগড় নতুনহাট এলাকায় জাহিদকে মারধর করে ভিডিও পোস্ট করার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে রাত ১০টার দিকে জাহিদ ও ওয়াহিদ মোটরসাইকেলে করে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ভাঙারগোড়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাঁদের পথরোধ করা হয়। পরে সশস্ত্র একদল ব্যক্তি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে জাহিদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় জাহিদের।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম গত ২ সেপ্টেম্বর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়। পরে পাহাড়তলি থানা এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি ১০ আসামিকে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ১০ আসামি হলেন জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮) ও হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮)।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার মো. আজাদকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আজাদের দেওয়া জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত অবশিষ্ট আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।