হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া ২৫৮ কোটি টাকা, আদায়ে ৮ বিশেষ দল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

ওয়াসার বোর্ডরুমে বকেয়া আদায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের প্রশংসাসূচক সনদ ও সম্মাননা দেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম ওয়াসার কাছে সাধারণ গ্রাহক ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মোট ২৫৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এই বকেয়া আদায়ে রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৮টি বিশেষ দল গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকা গ্রাহকদের সংযোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিল আদায়ে কাজ করছে দলগুলো।

ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, মোট বকেয়ার মধ্যে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছে ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

গত দুই মাসে সাত কর্মদিবস মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বিশেষ দলগুলো। বকেয়াদার গ্রাহকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে ওয়াসার গ্রাহক তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ দলগুলোর সদস্যরা গ্রাহকের বকেয়ার পরিমাণ, নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না, আদায় হওয়া টাকার পরিমাণ, বকেয়া না পরিশোধের কারণ এবং গ্রাহকের সর্বশেষ মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করছেন।

আজ বুধবার ওয়াসার বোর্ডরুমে বকেয়া আদায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের প্রশংসাসূচক সনদ ও সম্মাননা দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ বকেয়া আদায়কারী তিনজন মিটার পরিদর্শককে ক্রেস্টও দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার।

সেলিম মো. জানে আলম বলেন, রাজস্ব আদায়ে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গঠিত মনিটরিং দলগুলো এলাকাভিত্তিক কাজ করছে। নির্ধারিত এলাকায় বকেয়া থাকা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিল পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সেলিম মো. জানে আলম বলেন, ‘মনিটরিং দল মূলত উদ্বুদ্ধকরণমূলক কার্যক্রম করছে। এর আগে আমরা ৫০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে বকেয়া আদায়ে কাজ করেছি। এবার ২৫ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে বকেয়াধারীদের নিয়ে সাত কর্মদিবসের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।’

ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির মাসিক রাজস্ব আদায় দীর্ঘদিন ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। গত জুলাইয়ে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং আগস্টে ২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।

জুলাইয়ে আদায় হওয়া ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা চট্টগ্রাম ওয়াসার ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বকেয়া আদায়ে জোরালো তৎপরতার সুফল হিসেবে এই অর্জনকে গণ্য করছে ওয়াসা।

সেলিম মো. জানে আলম বলেন, ‘যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সফলতা আসছে, তাঁদের আরও উৎসাহিত করতে প্রশংসাসূচক সনদ ও সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আমিন ও মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দেসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।