চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষিত এলাকা ও অপারেশনাল তথ্য, স্কেচ, অবকাঠামোর ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশ না করার নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) এই নির্দেশনা দিয়েছে। বন্দরের অপারেশনাল তথ্য, ছবি, ভিডিও প্রচার ও প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে দেওয়া এই কঠোর ও নজিরবিহীন সতর্কবার্তায় তোলপাড় চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক মাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে কঠোর সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনের ধারা উল্লেখ করে দণ্ডের বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের বার্তা সম্পাদক ও ব্যুরোপ্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া নিয়ে আন্দোলন তুঙ্গে উঠেছে এখন।
‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে ১৩ অক্টোবর বন্দর চেয়ারম্যান কার্যালয় ঘেরাও করে তাঁকে অফিস থেকে বের হতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি এসেছে।
এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ জানালেন, সাংবাদিকরা দেশের প্রচলিত আইন-কানুন ও সাংবাদিকতার নিয়মনীতি মেনেই সংবাদ প্রকাশ করেন। এটা গণমাধ্যমকে আটকানোর কৌশল। আর দেশ ও মানুষের স্বার্থে তথ্য প্রকাশ সাংবিধানিক অধিকার। তাই এই ধরনের নির্দেশনা মেনে নেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে জানতে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিমকে ফোন দিলেও তাঁরা সাড়া দেননি।
একই বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কথা বলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা কাম্য হতে পারে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বন্দর বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতি, আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে বন্দর পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আইএসপিএস কোড অনুসরণকারী বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে বন্দরের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল স্থাপনার সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
অননুমোদিত তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা ও বন্দরের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি এসেছে বিজ্ঞপ্তিতে। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা জারির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
বন্দরের এক কর্মকর্তা বলছেন, সম্প্রতি অনেক ব্যক্তি নিজের ফেসবুক পেজে বন্দর জেটির ছবি, ভিডিও প্রকাশ করেছেন। আজ বন্দরের এক জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর সময় হুক ছেঁড়ার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে উল্লেখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।