বিশ্বের ব্যস্ততম ১০০ কনটেইনার সমুদ্রবন্দরের তালিকায় বাংলাদেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ৬৮তম অবস্থানে রয়েছে। আগের বছরও একই অবস্থানে ছিল বন্দরটি। লন্ডনভিত্তিক শিপিংবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’ গতকাল শনিবার সকালে ২০২৬ সালের শীর্ষ ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকা প্রকাশ করেছে।
প্রতিবছর কনটেইনার ওঠানামার পরিমাণের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করে ‘লয়েডস লিস্ট’। এতে বন্দর সেবার মান, কাস্টমস প্রক্রিয়া, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা জাহাজের অপেক্ষার সময় বিবেচনায় নেওয়া হয় না। এটি মূলত ভলিউমভিত্তিক সূচক—যে বন্দরে যত বেশি কনটেইনার ওঠানামা করে, তালিকায় তার অবস্থান তত ওপরে থাকে।
‘লয়েডস লিস্ট’-এর এবারের তালিকা তৈরি হয়েছে ২০২৫ সালের কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের তথ্যের ভিত্তিতে। ওই বছর চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৪ লাখ একক কনটেইনার (টিইইউ) ওঠানামা করে। এর আগের বছর ৩২ লাখ ৭৫ হাজার টিইইউ হ্যান্ডেলিং করেও বন্দরটি ৬৮তম অবস্থানে ছিল।
চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে কম প্রবৃদ্ধিকে দেখা হচ্ছে। শীর্ষ ৬৭টি বন্দরের অধিকাংশই গত বছর ৪ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। ফলে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বাড়লেও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় বন্দরটি উল্লেখযোগ্যভাবে এগোতে পারেনি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘আমরা এখনো লয়েডস লিস্টের রিপোর্ট পাইনি। তাই মন্তব্য করতে পারছি না।’
দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি বন্দর চট্টগ্রামের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। তালিকায় ভারতের মুন্দ্রা বন্দর ২৫তম, জওহরলাল নেহরু বন্দর ৩০তম এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর ২৯তম অবস্থানে রয়েছে। মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং রয়েছে দশম স্থানে।
বিদেশি একটি শিপিং কোম্পানিতে কর্মরত এক কর্মকর্তা বলেন, কলম্বো ও মুন্দ্রা বন্দরের উত্থানের পেছনে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা ও গভীর ড্রাফট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভারতের বেসরকারি খাতের মুন্দ্রা বন্দর আধুনিক অটোমেশন, নিজস্ব রেল যোগাযোগ এবং দ্রুত টার্ন অ্যারাউন্ড টাইমের মাধ্যমে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ট্রান্সশিপমেন্ট কার্গো নেই। মূলত বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানি ও বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির ওপরই বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডেলিং নির্ভরশীল। গভীর ড্রাফটের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক ট্রানজিট কার্গো আকর্ষণ করতে না পারাও চট্টগ্রাম বন্দরের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ।
এদিকে ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তালিকায় চীনের আধিপত্য এবারও অটুট রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করা বন্দর হিসেবে প্রথম অবস্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই বন্দর। শীর্ষ ১০-এর সাতটিই চীনের বন্দর।
শীর্ষ ১০ বন্দরের তালিকায় দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর বন্দর, তৃতীয় চীনের নিংবো-ঝৌশান, চতুর্থ শেনজেন, পঞ্চম কিংদাও, ষষ্ঠ গুয়াংজু, সপ্তম দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান, অষ্টম চীনের তিয়ানজিন, নবম সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী এবং দশম চীনের হংকং।
শুধু শীর্ষ ১০-এই নয়, পুরো ১০০ বন্দরের তালিকাতেও চীনের শক্ত অবস্থান রয়েছে। চীনের মূল ভূখণ্ডের ২৭টি বন্দর এবার তালিকায় জায়গা পেয়েছে। এসব বন্দর সম্মিলিতভাবে বছরে প্রায় ৩১ কোটি টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করেছে, যা তালিকাভুক্ত ১০০টি বন্দরের মোট হ্যান্ডেলিংয়ের প্রায় ৭০ কোটি টিইইউর ৪৫ শতাংশ।