চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি আগামী মঙ্গলবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আদালত এ সময় নির্ধারণ করেছেন।
আজ রোববার চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রসিকিউশনের এক কর্মকর্তা বলেন, গত শুক্রবার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা প্রত্যেক আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আজ ওই আবেদনের শুনানির জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় সময় নির্ধারণ করেন।
একই ঘটনায় গ্রেপ্তার চক্রটির সহযোগী মো. মহসিনকে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে খুলশী থানার মামলায় তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি এবং তাঁর রিমান্ডের আবেদনও করা হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ। সেখান থেকে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে আটক করা হয়।
অভিযানকালে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্র উদ্ধার করা হয়। অনলাইনে প্রতারণাসহ সাইবারকেন্দ্রিক নানা অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক অভিযোগে গত শুক্রবার তাঁদের সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
মহসিনকে গ্রেপ্তারের সময় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বিদেশিদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া করে দেন। বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টও তাঁর কাছে জমা ছিল। মহসিনের পেছনে থাকা অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ওসি জানান, বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় মহসিনকেও গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর রিমান্ড চাওয়া হবে।
পুলিশের দাবি, মহসিনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরে খুলশীতে অবস্থানরত ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়। কয়েক দিন আগে কুরিয়ারের মাধ্যমে কোকেনগুলো ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন মহসিন। পরে কোকেনগুলো ফেরত আসে।
কোকেনের তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে খুলশীর ওই বাড়িতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে বলে দাবি পুলিশের।
বিদেশি নাগরিকদের কয়েকজন মামলার তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে জানান, তাঁরা মহসিনের মাধ্যমে জুন নাগাদ বাংলাদেশে আসেন। ঢাকায় দুই দিন অবস্থানের পর তাঁরা চট্টগ্রামে চলে আসেন। তাঁদের সবার পাসপোর্ট মহসিনের কাছে রয়েছে বলেও তাঁরা জানান।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট উদ্ধার করতে পারেননি কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাসেল মাহমুদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।