হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

ছয় মাস পর উৎপাদনে ফিরল চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা

মো. ইমরান হোসাইন,কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)

৬ মাস পর উৎপাদনে ফিরল সিইউএফএল। ছবি: আজকের পত্রিকা

দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর রাষ্ট্রায়ত্ত চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) আবার সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগে। ত্রুটি কাটিয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হয়। এতে স্বস্তি ফিরেছে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত মাসের শেষ দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর ধাপে ধাপে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়। পরে ইউরিয়া প্ল্যান্টের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সচল করে উৎপাদনে ফেরার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেয়। কারখানার প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করে ত্রুটিগুলো কাটিয়ে ওঠেন।

আজ দুপুরে সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক উত্তম চৌধুরী বলেন, ‘সকালে আমাদের উৎপাদন প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে। গত মাসের শেষের দিকে আমরা গ্যাস পেলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদনে ফিরতে পারিনি। এরপর একে একে সব যন্ত্রপাতি সচল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, আগামীকালের মধ্যে কারখানাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ও স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে।’

সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর তাঁরা উৎপাদনে ফিরেছেন। এই সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে, নিয়মিত উৎপাদনের মাধ্যমে তা অল্প সময়ের মধ্যে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়া এলাকায় কাফকোর পাশে সিইউএফএলের অবস্থান। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সার কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসসংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গত আড়াই বছরে গ্যাসসংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটি অন্তত ছয় দফা বন্ধ হয়েছে।

কারখানার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিইউএফএল মাত্র পাঁচ দিন উৎপাদনে ছিল। পরে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর একই বছরের অক্টোবরে আবার উৎপাদন শুরু হয়।

২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়েও গ্যাসসংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটি একাধিকবার বন্ধ ও চালুর মধ্য দিয়ে যায়। প্রতিবার উৎপাদন শুরুর পর কিছুদিন চলার মধ্যেই নতুন সংকট দেখা দেয়। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনরায় চালুর ব্যয় বেড়েছে।

সর্বশেষ ৪ মার্চ উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর ১৫ সেপ্টেম্বর আবার চালু হলো সিইউএফএল।

কারখানা সূত্র অনুযায়ী, সিইউএফএল পূর্ণমাত্রায় চালাতে দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকলে কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয় না। গ্যাসের চাপ কমে গেলে বা সরবরাহ বন্ধ হলে উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়।

একসময় কারখানাটির দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। পুরোনো যন্ত্রপাতি, দীর্ঘদিন ব্যবহারে বিভিন্ন ইউনিটের সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং গ্যাসসংকটসহ নানা কারণে বর্তমানে কারখানাটির উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশা করছেন, গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকলে এবং বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি না দেখা দিলে কারখানাটির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

দেশের কৃষি খাতে ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোর উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ। সিইউএফএলের মতো বড় কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। কারখানাটি এবার দীর্ঘস্থায়ীভাবে সচল রাখা যায় কি না, সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।