চট্টগ্রামে দুই শিশুকে ব্যবহার করে পেটের ভেতর ইয়াবা পাচারের সময় শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরা নামে এক নারীকে আটক করেছে র্যাব-৭। এ সময় ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের পেট থেকে ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
আজ সোমবার বিকেল চট্টগ্রামের ৪টায় চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৭ এর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম।
আটক শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরা (৪০) কক্সবাজারের চকরিয়া থানার পূর্ব ডোমখালী গ্রামের আহমেদ হোসেনের মেয়ে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া থেকে নিরাপদে চট্টগ্রামে আনার উদ্দেশে ইয়াবাগুলো দুই শিশুর পেটে ঢুকিয়েছিলেন শারমিন আকতার। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে গত শনিবার রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার তৈলার দ্বীপ ব্রীজসংলগ্ন স্থানে অবস্থান নেয় র্যাব। সেখানে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে শারমিন আকতারকে আটক ও দুই শিশুকে হেফাজতে নেয় র্যাব। শারমিন এর আগেও দুইবার শিশুদের পেটের ভেতরে করে ইয়াবা চট্টগ্রামে নিয়ে এসেছেন।
তাওহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই শিশুর পেটে করে ইয়াবা আনার বিষয়টি স্বীকার করেন শারমিন। পরে দুই শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক্স-রে করার পর চিকিৎসকেরা তাদের পেটে ইয়াবা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর মলত্যাগের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো বের করা হয়। ৯ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৬টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা ছিল।
এ ঘটনায় আটক শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরা, হেফাজতে নেওয়া দুই শিশু এবং উদ্ধার ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন র্যাবের এই কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সাধারণত ইয়াবা প্লাস্টিকে পেঁচিয়ে ছোট ছোট ক্যাপসুলের মতো বানিয়ে গিলে পেটে নেওয়া হয়। এভাবে মাদক বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ক্যাপসুল দুর্ঘটনাবশত অন্ত্রে আটকে গেলে বা ফুটো হয়ে গেলে বহনকারীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।