চট্টগ্রামে প্রায় এক দশক আগে নগরের হালিশহরে সাত বছরের শিশু মাহফুজকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনার মামলায় মো. আল আমিন (৪৪) নামের এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গোপনের দায়ে তাঁকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নিশাদুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আল আমিন কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার কারপাশা পুতিহারা এলাকার মৃত জিন্নাত আলীর ছেলে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শহীদুল ইসলাম জানান, মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি আল আমিনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অপরাধের আলামত গোপন ও মরদেহ সরিয়ে ফেলার দায়ে আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকালে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার গলিঢিপাপাড়া টোল রোড এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাত বছরের শিশু মাহফুজকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে তার মরদেহ পাশের বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি খালে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর নিহত শিশুর বাবা মো. মাহাবুব হালিশহর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করলে ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। আদালতে এই মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।