কক্সবাজার ভ্রমণে এসে পথে ‘অসাবধানতাবশত’ নিজেদের দুই বছর বয়সী কন্যাশিশুকে কুমিল্লার রেস্তোরাঁয় ফেলে রওনা দেয় পাকিস্তান থেকে আসা একটি পরিবার। দীর্ঘপথ এগিয়ে যাওয়ার পর বুঝতে পেরে তাঁরা আবার রেস্তোরাঁর উদ্দেশে ফিরতে শুরু করেন। আর এরই মধ্যে রেস্তোরাঁটির মালিক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিশুটিকে হেফাজতে রাখা হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সমাজসেবা বিভাগের উদ্যোগে শিশুটিকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
আজ শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় জাইতুন রেস্তোরাঁয় এই ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায়। তিনি জানান, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল শিশুটির পরিবার কাশ্মীরের বাসিন্দা। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে পরিচয় দিলে জানা যায়, তাঁরা পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ ভ্রমণে এসেছেন। শনিবার সকালে দুটি গাড়িতে করে তাঁরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন এবং পথে জাইতুন রেস্তোরাঁয় নাশতা করেন।
পরিবারের ধারণার বরাতে ইউএনও জানান, নাশতা শেষে দুটি গাড়িতে করে যাত্রা শুরু করার সময় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। শিশুটির মা-বাবা মনে করেছিলেন, নাফিসা তার দাদা-দাদির গাড়িতে রয়েছে। অন্যদিকে দাদা-দাদিও ভেবেছিলেন শিশুটি মা-বাবার গাড়িতেই উঠেছে। এই ভুল-বোঝাবুঝির কারণে দুই বছরের নাফিসা রেস্তোরাঁতেই থেকে যায়।
ইউএনও সুজন চন্দ্র রায় বলেন, পরিবারটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় পৌঁছে শিশুটিকে না পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারে এবং দ্রুত কুমিল্লার দিকে ফিরে আসে। এদিকে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে একা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বেলা ৩টার দিকে শিশুটিকে তাঁর পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এরপর পরিবারটি পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়।
এ বিষয়ে জাইতুন রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, ‘পরিবারটি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আমরা শিশুটিকে একা দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি জানাই।’
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে সমাজসেবা বিভাগের সহায়তায় শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।