চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশমুখে কনটেইনারবাহী বিদেশি জাহাজ ‘এমভি সিএনসি ইউরেনাস’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পৃথক তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ও নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর। দুর্ঘটনার কারণ, বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনার কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না এবং এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নির্ধারণে দুই সংস্থাই পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম আজ শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে।’
নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী জানান, অধিদপ্তর থেকে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, বন্দরের কোনো স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত সোমবার (৩ আগষ্ট) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এমভি সিএনসি ইউরেনাস চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশমুখে পৌঁছালে এর দিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (স্টিয়ারিং গিয়ার) বিকল হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহাজটি প্রথমে ২ নম্বর লাল সংকেত বয়ায় ধাক্কা দেয়। এরপর ভাসতে ভাসতে নৌবাহিনীর স্থাপনার পাশের নদীতীরের পাথরের বাঁধে আটকে পড়ে।
বন্দর সূত্র জানায়, জাহাজটি মূল নৌপথে আটকে পড়লে বন্দরের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এতে দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারত। তবে জাহাজটি মূল নৌপথের বাইরে আটকে পড়ায় সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং বন্দর সচল রাখা সম্ভব হয়।
জাহাজটি চীনের শিকৌ বন্দর থেকে প্রথমে সিঙ্গাপুরে যায়। সেখান থেকে ১ হাজার ২৮২টি আমদানি কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) কনটেইনার খালাসের জন্য প্রবেশের সময়ই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট কান্ডারি-২, কান্ডারি-৪ ও কান্ডারি-১১, নৌবাহিনীর টাগবোট হালদা এবং কর্ণফুলী টানেল কর্তৃপক্ষের টাগবোট প্রমত্ত উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টার পর সোমবার গভীর রাতে জাহাজটিকে ভাসিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় সাগরের ব্রাভো অ্যাংকরেজে নেওয়া হয়।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারের পর জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এপিএল (বাংলাদেশ) লিখিতভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, জাহাজটি চলাচলের উপযোগী রয়েছে। এরপর তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে তিনজন জ্যেষ্ঠ পাইলটের তত্ত্বাবধানে জাহাজটিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে আনার অনুমতি দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে যদি সংকেত বয়া, নদীতীরের পাথরের বাঁধ, জেটি বা বন্দরের অন্য কোনো স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জাহাজ বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হতে পারে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।