চট্টগ্রামে সাতকানিয়া থানার সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন ও অসদাচরণের অভিযোগে করা মামলায় ভুক্তভোগী ও বাদী মোহাম্মদ পারভেজের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন আদালত। আজ রোববার চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
এর আগে চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে সাতকানিয়া থানার বাসিন্দা ও মামলার বাদী মোহাম্মদ পারভেজ আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। গত ১১ জুন আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে স্পেশাল মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন এবং পরবর্তী তারিখে মামলার গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে শুনানির জন্য রাখেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, রোববার আদালতে স্পেশাল মামলাটির গ্রহণযোগ্যতার ওপর অধিকতর শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।
অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ আমাদের হাতে এখনো আসেনি। আদালতের আদেশ পেলে মামলাটির বিস্তারিত জানতে পারব।’
অভিযুক্তরা হলেন, সাতকানিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তারেক ইমরোজ, উপপরিদর্শক ফজলু এবং একই থানার অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন পুলিশ সদস্য।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাতকানিয়া থানার এওছিয়া গ্রামের মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ পারভেজ স্বল্প বেতনে চাকরি করতেন। পাশাপাশি তিনি ব্যবসায়ও নামেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৬ মে দুপুরে কোনো পরোয়ানা বা অভিযোগ ছাড়াই সাতকানিয়া থানা পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। পরে ২৯ মে পর্যন্ত থানা হেফাজতে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁর দুই হাতে গুরুতর জখম করা হয় এবং বাম কানে আঘাতের কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। তাঁর মুঠোফোনও নিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাঁকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে যাওয়ার পর বাদী ২ মাস ৩ দিন কারা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন হাজতবাসের পর বাদী জামিনে বের হয়ে পুলিশের আইজিপির কাছে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সে সময় দু’জন নিরপেক্ষ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ। তবে পরবর্তী সময়ে অভিযোগের তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যায় বলে মামলায় বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার পর চলতি বছরের ১০ এপ্রিল উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তারেক ইমরোজ ও উপপরিদর্শক ফজলুর নির্দেশে সাদা পোশাকে ৫/৬ জন পুলিশ সদস্য বাদীর বাসায় যান। অভিযোগ তুলে নিতে তাঁকে চাপ প্রয়োগ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী পারভেজ অভিযোগে উল্লেখ করেন, এর আগে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ সৃষ্টি করায় তিনি ভয়ে মামলা দায়ের করতে পারেননি।