হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

জাল কাগজে বন্দর থেকে বেরিয়ে গেল ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার, গ্রেপ্তার ২

আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম 

ছবি: সংগৃহীত

জাল স্বাক্ষর, ভুয়া সিল ও কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ভর্তি একটি ৪০ ফুট কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের করে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের দুই কর্মী মো. মোর্শেদ আলম (৩১) ও মো. সাইদুর রহমানকে (৫১) গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

৮ সেপ্টেম্বর বন্দর থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বন্দরের ডিজিটাল ব্যবস্থায় কনটেইনারটির ডেলিভারি রেকর্ড তৈরি করা হয়। পরে একটি ট্রেইলারে করে কনটেইনারটি বন্দর এলাকার ১ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নেওয়া হয়। এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭ নম্বরের কনটেইনারটি গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের। এতে শতভাগ রপ্তানিমুখী পণ্য তৈরির কাপড় ছিল।

ঘটনাটি বন্দরের ডিজিটাল রেকর্ড ও বাস্তব নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতির প্রশ্ন সামনে এনেছে। কনটেইনারটি সরানোর জন্য ডিজিটাল সিস্টেমে মুভমেন্ট এন্ট্রি থাকলেও, সেই মুভমেন্ট অনুমোদনের কাগজে থাকা স্বাক্ষরটি জাল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের দুই কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটের দিকে টার্মিনাল ম্যানেজারের কার্যালয়ের এফসিএল শাখা থেকে কনটেইনারটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, কনটেইনার নিখোঁজের ঘটনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীকে শনাক্ত করে আটক করার পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আবদুর রহিম বলেন, দুই সিএন্ডএফ কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

কনটেইনারটি কীভাবে বন্দর থেকে বের হলো এবং বন্দর বা টার্মিনালের অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এতে জড়িত ছিলেন কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

ডিজিটাল রেকর্ডে যা আছে

এমভি এমসিসি ডানাং জাহাজে করে বন্দরে আসার পর কনটেইনারটি এনসিটি-২ জেটিতে খালাস করা হয়। পরে সেটি সাইফ পাওয়ার টেক লিমিটেড পরিচালিত সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়।

কাস্টমসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আমদানিকারকের সিএন্ডএফ এজেন্ট সংগ্রহ না করা পর্যন্ত কনটেইনারটির ওই ইয়ার্ডে থাকার কথা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট ডিজিটাল ব্যবস্থায় কনটেইনারটির অন-চ্যাসিস ডেলিভারি দেখানো হয়। কাগজপত্র আসল বলে দেখাতে ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্দর কাস্টমসের কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বন্দরকর্মী ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া কনটেইনার ছাড়ানো সম্ভব নয়। শুধু শ্রমিকদের আটক করে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।

কাগজপত্র থেকে ১ নম্বর গেট

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজে মোর্শেদ আলম ও সাইদুর রহমানকে অন-চ্যাসিসের কাগজপত্রের কপি নিয়ে আসতে দেখা যায়। বন্দর কর্মকর্তারা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মোর্শেদ আলম ও সাইদুর রহমান নিখোঁজ কনটেইনারটি সরানোর সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পরে কনটেইনারটি চট্টগ্রাম-ডি-৮১-০০০৩ নম্বরের একটি ট্রেইলারে তোলা হয়। ট্রেইলারটির চালক ১ নম্বর গেটে দায়িত্বে থাকা গেট সার্জেন্ট মো. শাহাব উদ্দিন ও নিরাপত্তাকর্মী ১৬৩২/চন্দন কুমার সরকারের কাছে ডেলিভারি কাগজপত্র দেখান। পরে ট্রেইলারটিকে বন্দর থেকে বের হতে দেওয়া হয়।

কনটেইনারটি ইয়ার্ড থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল রেকর্ড, ডেলিভারি কাগজপত্র, টার্মিনাল প্রক্রিয়া ও গেট নিরাপত্তার একাধিক ধাপ রয়েছে। কথিত জাল কাগজপত্র কীভাবে এসব যাচাই পেরিয়েছে, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গেটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কাগজপত্র দেখে প্রতারিত হয়েছিলেন, নাকি জেনেশুনে কেউ কনটেইনারটি বের হতে সহায়তা করেছিলেন, সেটিও তদন্তের বিষয়।