হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

কেইপিজেডে দুই বন্য হাতি, উত্যক্ত না করতে বন বিভাগের সতর্কতা

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

কেইপিজেড এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্য হাতি। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর কেইপিজেডে পাহাড় থেকে নেমে আসা দুটি বন্য হাতির অবাধ বিচরণে একদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, অন্যদিকে পর্যটকদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে বেড়েছে নিরাপত্তাঝুঁকি।

আজ শুক্রবার বিকেলে হাতি দুটিকে দেখতে আসা কয়েকজন পর্যটকের বিরুদ্ধে চিৎকার, ঢিল ছোড়া ও ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ছবি-ভিডিও করার অভিযোগ উঠেছে। বন্য প্রাণীকে উত্যক্ত না করতে পর্যটকদের সতর্ক করেছে বন বিভাগ।

দেয়াঙ পাহাড় থেকে নেমে আসা হাতির পালের তাণ্ডবে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার গ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দিনের বেলায় পাহাড়ে অবস্থান করলেও সন্ধ্যার পর হাতির দল লোকালয়ে নেমে আসে। হাতিগুলো ফল ও ফসলের ক্ষতি করার পাশাপাশি অনেক সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলাও চালায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে পাহাড় থেকে নেমে আসা দুটি বন্য হাতি কেইপিজেডের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাতি দেখতে প্রতিদিন উৎসুক পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমছে কেইপিজেডের সড়কে।

অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে অনেক পর্যটক হাতির খুব কাছে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ চিৎকার করছেন, ঢিল ছুড়ছেন কিংবা ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণের মাধ্যমে হাতি দুটিকে উত্যক্ত করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মানুষের এমন উসকানিমূলক আচরণে বন্য হাতি দুটি ক্রমে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটতে পারে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী বন বিভাগের কর্মী মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, ‘বন্য প্রাণীকে বিরক্ত করা বা কাছে গিয়ে উত্যক্ত করা মারাত্মক অপরাধ ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিরক্ত করলে শান্ত হাতি হঠাৎ হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। পর্যটকদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান ও কোনোভাবেই হাতিকে উত্যক্ত না করতে অনুরোধ করছি।’

মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, হাতি ও মানুষের সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে ইআরটি সদস্যদেরও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক যুগ আগে থেকে বন্য হাতির একটি দল কেইপিজেডের পাহাড়ে অবস্থান নিতে শুরু করে। শুরুতে কয়েক দিন ঘুরে চলে গেলেও ২০১৮ সাল থেকে হাতিগুলো কেইপিজেড ও দেয়াঙ পাহাড় এলাকায় স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করে।

হাতির পালটি আনোয়ারার বটতলী হাজীগাঁও এবং কর্ণফুলীর কেইপিজেডের দেয়াঙ পাহাড়, হ্রদ ও বনঘেরা এলাকায় বিচরণ করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ২০১৮ সালের শেষ দিকে হাতির দলটি স্থায়ীভাবে কেইপিজেড এলাকায় বসবাস শুরু করে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি হাতির আক্রমণে ওই এলাকায় প্রথম মানুষের মৃত্যু হয়।