ভোটের এক দিন আগে চট্টগ্রামের রাউজানে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মুহুর্মুহু ফাঁকা গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আজ বুধবার উপজেলা কদলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলির ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ জানান সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।
১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে ২৫-৩০ জনের একদল দুর্বৃত্তকে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। তাদের স্থানীয় একটি গ্রামে সারিবদ্ধ হয়ে সামনের দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে এগোতে দেখা যায় এবং ১৩টি গুলি ছোড়ার শব্দ শোনা যায়।
এ সময় গ্রামের আশপাশে বাড়িঘরে নারী-শিশুদের চেঁচামেচিও করতে শোনা গেছে। স্থানীয় কেউ একজন দূর থেকে গোপনে ওই ভিডিওটি ধারণ করেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের ভোট গ্রহণ ঘিরে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর বিপক্ষের লোকজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি ও আধিপত্য জানান দিতে এই গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।
বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব সউম আব্দুস সামাদ দাবি করছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের নেতৃত্বে রাউজানে কদলপুরে সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী, এজেন্ট ও সমর্থকদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান চট্টগ্রাম মহানগরী ও রাউজানে একাধিক হত্যা মামলায় পলাতক আসামি। একটি রাজনৈতিক নেতার প্রশ্রয়ে থাকা শীর্ষ এই সন্ত্রাসী ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে একের পর এক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য এলে তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সেখানে রুস্তম নামে একজনের ঘরে গিয়ে পাঁচ-ছয়জন সন্ত্রাসী গালিগালাজ করার পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে বলে শুনেছি। আমরা এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করছি। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা এখনো সম্ভব হয়নি। আমরা কাজ করছি।’