হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে কটাক্ষ: চবির শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, বহিষ্কার আরও দুই শিক্ষার্থী

চবি প্রতিনিধি 

ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করার ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় দর্শন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ী এবং ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, সহকারী প্রক্টরের গায়ে হাত তোলার ঘটনায় স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত পাওয়া এক শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই ড. আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী তাঁর ফেসবুক আইডিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট দেন। ১১ জুলাই পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এর পরদিন ১২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফিলোসফি ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহসির হাসানকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় একজনকে স্থায়ী এবং একজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে।

এদিকে, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী বিজয়-২৪ হলের (সাবেক জননেত্রী শেখ হাসিনা হল) নামফলক ও কংক্রিটের নৌকা ভাঙতে গেলে কয়েকজন ছাত্রী তাঁদের বাধা দেন। এ সময় সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কোরবান আলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েতকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং তাঁর সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যান আফসানা। সেখানে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত তাঁকে ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ দেন। তবে মামলা চলাকালেই ছয় মাসের সেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া বলেন, আফসানা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাঁর বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি কার্যকর হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে পারবেন কি না, সেটিও আদালতের আদেশের ওপর নির্ভর করবে।