চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনটি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাটকে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী।
উদ্বোধনকালে জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. পলাশ জানান, সংক্রমণের উচ্চ হার বিবেচনা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ তিনটি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে হামের টিকাদান কর্মসূচি চলছে। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত তিনটি উপজেলার টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এই কর্মসূচি চলবে।
এদিকে সিভিল সার্জন এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, এই তিন উপজেলার ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। জরুরি এই কর্মসূচি সফল করতে গত বৃহস্পতিবার থেকে মাঠপর্যায়ের সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করে তাদের কর্মস্থলে নিয়োজিত করা হয়েছে।
টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মশিউর রহমান।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৮ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬০ জন। তাদের মধ্যে ছেলেশিশুর সংখ্যাই বেশি। চলতি বছর হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিয়েছে ৩৯২ জন। এই রোগের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।