চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দ ১১ দশমিক ২৫ টন চালের মধ্যে ৫ টন চাল চুরি করে বিক্রিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আজ সোমবার বিকেলে এতথ্য নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, গতকাল চাল জব্দের পর রাতেই ওই প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এরপর থেকে তাঁকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে ওই কর্মকর্তা শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গতকাল রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম অভিযান চালিয়ে সিএসডি গুদাম থেকে চুরি হয়ে যাওয়া ৪৯৩০ কেজি অর্থাৎ প্রায় ৫ টন চাল মিনিট্রাকসহ জব্দ করেন। পরবর্তীতে ওই চাল সিএসডি গুদামে সংরক্ষণ করা হয়।
চুরি করে বিক্রি করে দেওয়া চাল পরিবহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন পিকআপচালক শাহাদাত। তিনি বলেন, চাঁদপুর কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি) গুদাম থেকে তিনি ওই চালের ভাড়া নিয়ে কুমিল্লার লাকসাম যাচ্ছিলেন। চালের মালিকের নাম বলা হয়নি। বলা হয়েছে, লাকসাম যাওয়া হলে ওই ব্যক্তির নাম দেওয়া হবে। কিন্তু পথিমধ্যে হাজীগঞ্জে এলে আমার কাছে ফোন আসে চালগুলো ফেরত নিয়ে আসার জন্য। বিক্রিত টোকেনে চালের পরিমাণ লেখা ছিল ৪৯৩০ কেজি। চালের মালিকের নাম ছিল না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। সে আলোকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯৭০ জেলের জন্য বরাদ্দ হয় ১১ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। কিন্তু ওই চাল নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিতরণ হয়নি।