মাদক সেবন দেখে ফেলায় শিশুর পায়ুপথে ব্রাশের হাতল ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ১২ বছরের ওই শিশুকে স্থানীয় একটি মসজিদের ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আজ মঙ্গলবার আবদুল খালেক (৩৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন ও পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।
গ্রেপ্তার আবদুল খালেক উপজেলার দক্ষিণ পাড়াগাব্দেরগাঁও গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা যায়, অভিযুক্ত চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত। শিশুটি তাঁদের মাদক সেবন দেখেছে এবং এলাকার লোকজনকে জানিয়ে দেবে—এমন আশঙ্কা থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার রাতে স্থানীয় বাজার থেকে ফুচকা খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটিকে একা পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পেছন থেকে জাপটে ধরে একটি মসজিদের ছাদে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধরের পর পায়ুপথে প্লাস্টিকের ব্রাশের হাতল প্রবেশ করিয়ে ফেলে রেখে যায়।
শিশুটির বাবা মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে তাদের মাদক সেবন দেখে এবং এলাকার লোকজনকে জানিয়ে দেবে বলার কারণে তারা আমার ছেলেকে মসজিদের ছাদে শুইয়ে বীভৎস নির্যাতন চালায়। তার পায়ুপথে মারাত্মক রক্তপাত হয় এবং সে অচেতন হয়ে যায়। আমার ছেলেটার জীবন তারা নষ্ট করেছে। আমরা অসহায় মানুষ, উচিত বিচার চাই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। সব মাদক কারবারির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এলাকায় মাদক কারবারিদের কারণে নানা ধরনের চুরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, ‘শিশুর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি ন্যক্কারজনক। এ ঘটনায় শিশুর বাবার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে আবদুল খালেক নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্য কাউকে পাওয়া গেলে তদন্ত করে তাঁকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।