চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার বেসরকারি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র ‘লাইফ লাইন হাসপাতাল (প্রা.)’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি না মেনে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নিবন্ধন ছাড়া এই হাসপাতালে অপারেশনসহ সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা নিবন্ধনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, যাদের নিবন্ধন নেই, তাদের ২৩ জুলাই সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে কাজগপত্র জমা দিতে নোটিশ করা হয়েছে।
ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের নারায়ণপুর পশ্চিম বাজারে হাসপাতালটির অবস্থান। এর আগে হাসপাতালটি বায়েজিদ হাসপাতাল নামে পরিচালিত হয়েছে। এক বছর আগে থেকে এটির নাম পরিবর্তন হয়; পাশাপাশি মালিকানাও বদল হয়। কিন্তু হাসপাতালের অধিকাংশ কাগজপত্র ও চিকিৎসকদের নামের নিচে ‘বায়েজিদ মেমোরিয়াল হসপিটাল (প্রা.)’ লেখা রয়েছে। একাধিক চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র একজন চিকিৎসক। তিনি আবার মালিকপক্ষ। মালিকানায় আরেকজন আছেন ওই এলাকার চিকিৎসক মো. ফারুক।
কাগজপত্র ছাড়া কীভাবে এই হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে জানতে প্রথমে যাওয়া হয় খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানকার চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, ‘লাইফ লাইন হাসপাতাল নামে কোনো প্রতিষ্ঠান আছে বলে জানা নেই। বায়েজিদ নামে আছে জানি। পরে তিনি পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর শাহাদাত হোসেন খানকে জিজ্ঞেস করেন, লাইফ লাইন হাসপাতাল নামে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কি না। শাহাদাত জানান, এই নামে কোনো হাসপাতাল ট্রেড লাইসেন্স নেয়নি।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি ট্রেড লাইসেন্সের কপি দেখিয়েছে। কিন্তু ওই লাইসেন্স ২০২৫-২৬ অর্থবছরের। যার মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট তাদের ব্যবসা শুরু।
অনিবন্ধিত লাইফ লাইন হাসপাতালের চিকিৎসক ও মালিকপক্ষের একজন ডা. মোহাম্মদ জারিফ হাসান। তিনি বলেন, ‘আমি ছয় মাস পূর্বে মালিকানা নিয়েছি। অনুমোদনের জন্য কাগজপত্র প্রস্তুত করছি।’
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে। সেখানকার সহকারী পরিচালক মু. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই হাসপাতাল থেকে একজন যোগাযোগ করেছে। আমি বলেছি, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।’
চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে আবেদনের কপি জমা দিয়েছে। যাচাই-বাছাই করব। অনেকে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স দেয়। চাঁদপুর পৌরসভায় দেখেছি, পৌর কর্তৃপক্ষ অনেক প্রতিষ্ঠানের নামই জানে না।’
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. গোলাম রায়হান বলেন, লাইফ লাইন হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার অনিবন্ধিত। তাদের ২৩ জুলাই নোটিশ করা হয়েছে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সকল কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য। এই সময়ের মধ্যে জমা না দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন বলেন, ‘বিষয়টি অবগত রয়েছি। এইভাবে কোনো হাসপাতাল পরিচালনা করা যায় না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে বলা হবে।’