হাসপাতালে জরুরি ভ্যাকসিন নেই, ডেঙ্গু রোগীদের প্রয়োজনীয় ইনজেকশনও মজুত নেই—এমন চিত্র দেখে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীনকে বদলির নির্দেশ দেন তিনি। তবে নির্দেশ দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই সিভিল সার্জনের ক্ষমা প্রার্থনার পর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
গতকাল রোববার সকালে আকস্মিক সফরে চাঁদপুরে এসে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। হাসপাতাল ঘুরে দেখার সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজ নেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে মন্ত্রীর নজরে আসে, তিন দিন ধরে হাসপাতালে অ্যান্টি-র্যাবিস (জলাতঙ্ক) ভ্যাকসিন নেই। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ইনজেকশনের মজুতও শেষ। জরুরি এসব চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত শেষ হওয়ার পরও বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী।
এ সময় সেলফোনে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চাঁদপুরের সিভিল সার্জনকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে বদলির নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রীর নির্দেশের পর বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুরের স্বাস্থ্য বিভাগে আলোচনা শুরু হয়। দুপুর দেড়টার দিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন নিজের ভুল স্বীকার করে মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান।
তিনি জানান, জরুরি ভ্যাকসিন ও ইনজেকশনের মজুত শেষ হওয়ার বিষয়টি দ্রুত সমাধান এবং যথাযথভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে। এ জন্য তিনি মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
পরে মন্ত্রী তাঁর বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করেন। বিকেলে সিভিল সার্জন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়ার পর মন্ত্রী তাঁকে প্রথমবারের মতো ক্ষমা করেছেন।
এদিন সকাল ১০টার দিকে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে মন্ত্রীর আকস্মিক সফর শুরু হয়। সেখানে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবা ও রোগীদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি। হাসপাতালের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনাও দেন।
দুপুর ১২টার দিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে যান মন্ত্রী। সেখানে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার নিজে খেয়ে এর মান যাচাই করেন। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
বিকেল ৩টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রীর এসব পরিদর্শনের সময় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সলিম উল্যা সেলিম, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান-সহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।