সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম দামে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধী চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। নড়াইলের কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নড়াইলের কালিয়া থানা এলাকার ফুরকান ওরফে ফুরকান শেখ (২৫), চান মিয়া ওরফে চান্দু শেখ (২৫), রাতুল হোসেন নবেল (২৫) ও শহিদুল শেখ (২৩)।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে একই চক্রের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে চক্রটির ছয় সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হলো।
পুলিশ জানায়, ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে নড়াইলের কালিয়া এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, ভারতীয় দুটি সিমসহ মোট ৪৬টি সিম কার্ড এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিভিন্ন আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে কারসাজির মাধ্যমে এডিট করত। পরে ‘চাঁদপুর ইলিশ বাজার’সহ বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, জুতা, কলম, বেবি টয় ও অনলাইন জবসহ বিভিন্ন পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করত। এসব বিজ্ঞাপনের সঙ্গে শর্ট রিল ও ভুয়া কমেন্ট তৈরি করে বুস্ট পোস্টের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। পুলিশ জানায়, চক্রটির মূল শিকড় নড়াইলে।
পুলিশের ভাষ্য, প্রতারণার সময় চক্রের সদস্যরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ও অডিও কলের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিত। গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জাল ট্রেড লাইসেন্স, নকল ভাউচার ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা হতো।
কোনো পণ্য কেনার জন্য গ্রাহক অগ্রিম টাকা পাঠানোর পরই যোগাযোগ বন্ধ করে দিত চক্রের সদস্যরা। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ২১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও ডিবির একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে এসআই মো. আনছার উল্লাহ, মো. জিয়াউল হক জিয়া, এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও এএসআই মো. জহির উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত দল কালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল গ্রেপ্তার চারজনকে চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনা হয়। আজ মঙ্গলবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাইবার দুনিয়ায় সংঘবদ্ধ প্রতারণা ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পেশাদারত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।