চাঁদপুর শহরে বাসার বারান্দায় খেলতে গিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এসে ফাইজা আক্তার (৬) ও মো. সাব্বির (৪) নামের দুই শিশু দগ্ধ হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাদের প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়; পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
আজ শনিবার বেলা ২টার দিকে শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকার আরএস টাওয়ারের পঞ্চম তলার পশ্চিম পাশের একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ দুই শিশু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ফাইজা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার মো. ফরহাদের মেয়ে। আর সাব্বির একই এলাকার মো. সুমন মিয়ার সন্তান।
দুই শিশু যে বাসায় বেড়াতে এসেছিল, সেটির ভাড়াটে প্রবাসী সোহেল দেওয়ান। তিনি বর্তমানে প্রবাসে থাকেন। তাঁর স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কালীবাজার এলাকায়। প্রায় আড়াই বছর ধরে তাঁরা ওই বাসায় ভাড়া থাকছেন।
ইয়াছমিন আক্তার জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর দুই খালাতো বোন বেড়াতে আসেন। তাঁদের সঙ্গে শিশুরাও ছিল। একপর্যায়ে দুই শিশু খেলতে বারান্দায় যায়। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দ শুনে তাঁরা বারান্দায় গিয়ে দুই শিশুকে দগ্ধ এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। ইয়াছমিনের ধারণা, শিশুরা হাতে থাকা লোহার মতো কোনো পাইপের মাধ্যমে পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির বারান্দার খুব কাছ দিয়েই ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চলে গেছে। তবে ওই লাইন থেকে নিরাপত্তার জন্য বারান্দার পাশে কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে জানতে বাড়ির মালিক রাসেল মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তাঁর বাসায় গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিবুল হাসান বলেন, দগ্ধ দুই শিশুকে তিনি নিজেই চিকিৎসা দিয়েছেন। ফাইজার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপর শিশুটির শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। ঘটনার সময় তিনি থানার বাইরে কাজে ছিলেন। পরে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।