হোম > সারা দেশ > চাঁদপুর

সাবেক কাউন্সিলরকে মারধর: ‘মব কালচারের’ বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মাদক কারবারের অভিযোগে এক প্রবীণ সাবেক কাউন্সিলরকে জনসমক্ষে হেনস্তা, মারধর ও অন্যায়ভাবে আটকের ঘটনায় জড়িত ‘মব সন্ত্রাস’ ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল বুধবার চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস মুজাহিদুর রহমান এই আদেশ দেন। রাত ৯টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখাল বাজারে একদল উচ্ছৃঙ্খল তরুণ একটি মুদিদোকানে প্রবেশ করে সাবেক কাউন্সিলর নিজাম কাজীকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করে। ভিডিওতে এক তরুণের হাতে ইয়াবা সদৃশ বস্তু দেখা যায় এবং সেটির মাধ্যমে পুলিশে খবর দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে। তবে ঘটনার সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিককে কোনো ব্যক্তিকে তল্লাশি বা আটকের এখতিয়ার দেওয়া হয়নি। ব্যক্তিগত দোকানে বেআইনি প্রবেশ, প্রকাশ্যে মারধর ও গালাগাল করার ঘটনা ফৌজদারি দণ্ডবিধির আওতায় স্পষ্ট অপরাধ।

বিচারক উল্লেখ করেন, কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর করা ‘মব কালচারের’ অংশ, যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে। কিশোর গ্যাং ও মব সন্ত্রাসের উচ্ছৃঙ্খলতা দমনে কঠোর আইনি প্রয়োগ জরুরি বলে আদেশে বলা হয়।

ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের শনাক্ত ও বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (হাজীগঞ্জ সার্কেল) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথাকথিত মাদক উদ্ধারের ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা একই সময়ের মধ্যে জানাতে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।