‘এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সবজি চাষ করেছি। সবজি বিক্রি করেই আমার সংসার, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাই। রাতের আঁধারে কে বা কারা আমার লাউগাছগুলো কেটে দিয়েছে। এক রাতেই আমার অনেক দিনের পরিশ্রম শেষ হয়ে গেছে।’ জমির পাশে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন চাঁদপুরের কচুয়ার দরিদ্র কৃষক লিয়াকত হোসেন।
গতকাল শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার বড়তাকিয়া ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় ২৪ শতক জমিতে তাঁর চাষ করা শতাধিক লাউগাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঋণ করে জমিতে লাউ চাষ করা ভুক্তভোগী কৃষক লিয়াকত এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে রাস্তার পাশে ২৪ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন লিয়াকত হোসেন। আজ শনিবার সকালে তাঁর ছেলে লাউ তুলতে গিয়ে দেখেন জমির সব লাউগাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। এসব লাউ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারের ভরণ-পোষণ ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর ইচ্ছে ছিল কৃষক লিয়াকতের।
লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অনেক কষ্ট করে রাস্তার দুই পাশে সবজি চাষ করেছি। এই সবজি বিক্রি করেই আমার সংসার চলে, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাই। কে বা কারা রাতের আঁধারে আমার লাউগাছগুলো কেটে দিয়েছে জানি না। এক রাতেই আমার অনেক দিনের পরিশ্রম শেষ হয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
লিয়াকতের ছেলে মামুন হোসেন বলেন, ‘সকালে জমিতে লাউ কাটতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি সব লাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। দৃশ্যটি দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই। আমার বাবার এত দিনের পরিশ্রম এভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।’
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের দাবি, কৃষকের কষ্টের ফসল ধ্বংস করার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে কথা বলে কৃষি প্রণোদনার আওতায় তাঁকে বিনা মূল্যে বীজ ও সার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ দেননি। দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।