হোম > সারা দেশ > চাঁদপুর

৯২ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই কোনো চিকিৎসক

মুহাম্মদ মাসুদ আলম, চাঁদপুর

চাঁদপুর সদরের বাগাদী ইনিয়ন স্বাস্ব্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ছবি: আজকের পত্রিকা

চাঁদপুরের আট উপজেলায় ৯২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাগজে-কলমে চিকিৎসক রয়েছেন। অথচ সেসব চিকিৎসক সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে সামান্য সেবা পেতেও ছুটতে হচ্ছে উপজেলা কিংবা জেলা সদরে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুরে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে ২০টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৭২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র। সাধারণ রোগের চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার-পরিকল্পনা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা এসব প্রতিষ্ঠানের। সে জন্য প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাগজে-কলমে একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসক বরাদ্দ দেওয়া আছে। কিন্তু সেসব চিকিৎসক প্রেষণে সেবা দিচ্ছেন উপজেলা কিংবা জেলা সদরের হাসপাতালে।

অন্য জনবলসংকটের চিত্রও আশঙ্কাজনক। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের ৫৩টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১৪ জন। শূন্য রয়েছে ৩৯টি পদ। পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকার ১৪২ পদের মধ্যে কর্মরত ৫৯ জন, শূন্য ৮৩টি। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের ৯১ পদের বিপরীতে কর্মরত ৮২ জন, শূন্য ৯টি পদ। আর পরিবারকল্যাণ সহকারীর ৫১৩ পদের বিপরীতে কর্মরত ৩৩৭ জন; শূন্য ১৭৬টি পদ।

এ ছাড়া ওষুধের সংকটও রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। সরকারি এসব কেন্দ্রে দরিদ্র মানুষের বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার কথা। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

সদরের বাগাদী ইউনিয়নের সোবহানপুর গ্রামের সুমাইয়া আক্তার বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও সেখানে এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। চিকিৎসার জন্য যেতে হয় জেলা সদরে। দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে সদর হাসপাতালে যাওয়া তাঁর জন্য কষ্টকর।

সম্প্রতি ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেখা যায়, রোগীর উপস্থিতি খুবই কম। কয়েক রোগী জানান, সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশির মতো রোগের ওষুধও অনেক সময় পাওয়া যায় না। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না নিয়েই ফিরতে হয়। বাইরে থেকে ওষুধ কেনার সামর্থ্য অনেকের নেই।

বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের চিত্রও একই। স্থানীয় শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির ভুতুড়ে অবস্থা। চিকিৎসক নেই, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীও নেই। একসময় অধিকাংশ মানুষ এখানে এসে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিতেন। এখন মাত্র একজন স্বাস্থ্য সহকারী বসেন।

বালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, চিকিৎসক না থাকলে কেন্দ্র থাকা না-থাকা একই কথা। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদও শূন্য রয়েছে। দ্রুত এসব পদ পূরণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সচল করার দাবি তাঁদের।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেসব চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে রাখা হয়েছে। এ কারণে তাঁরা ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না।

ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন আরও বলেন, সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যথাযথসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হবে।

চাঁদপুর পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, জনবলসংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য সরকার ইতিমধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হলে সংকট অনেকটাই কমে যাবে।

ওষুধ সংকটের বিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন, বর্তমানে কিছুটা সংকট রয়েছে। তবে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা ও ওষুধ পাবেন।