ফরিদগঞ্জ উপজেলার মদনের গাঁও গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের (৪৫)। সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পা হারিয়ে এখন বাড়ির পাশে চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ডান পায়ের তালুতে ফোড়া হওয়ায় আবুল খায়ের গত রোববার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। গতকাল ফোড়া অস্ত্রোপচারের পর আজ মঙ্গলবার কিছুটা সুস্থ বোধ করায় বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় ছাদের পলেস্তারা ও সিমেন্টের বড় বড় চাঁই খসে পড়লে গুরুতর আহত হন তিনি।
এ সময় ওই ওয়ার্ডে আরও দুজন রোগী আহত হন। তাঁরা হলেন রফিকুল ইসলাম (৭০) ও আকতার হোসেন (৮০)।
আবুল খায়ের বলেন, হাসপাতাল ছাড়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগে সার্জারি ওয়ার্ডের পুরুষ অংশে বিকট শব্দে ছাদের বড় বড় অংশ খসে পড়ে। দেয়ালের কাছাকাছি থাকায় বড় অংশটি সরাসরি তাঁর মাথায় পড়েনি। তবে ভাঙা পলেস্তারা তাঁর মাথা ও শরীরে আঘাত করে।
আবুল খায়েরের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর পাটওয়ারী বলেন, ও খুবই গরিব মানুষ। প্রতিবন্ধী হওয়ার পর বাড়ির পাশে চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালায়। দুই মেয়ে আছে। এমন অবস্থায় চিকিৎসা নিতে এসে আবার এভাবে আহত হতে হলো।
খবর পেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ কে এম মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। তিনি বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসাধীন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি পুরোনো অবকাঠামোর কারণেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এ কে এম মাহবুবুর রহমান জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে মেরামতের কাজ চলছে।